Advertisements
Archiveপোর্টজিন

কানাডায় বাঙালিয়ানা, মাতৃ আরাধনার চারদিন

 

 

কানাডায় বাঙালিয়ানা, মাতৃ আরাধনার চারদিন

লিখেছেন – মৌসুমী ভৌমিক, এডমন্টন, কানাডা

 

NBlive কানাডাঃ যখন বাংলার বাতাসে শিউলিফুলের গন্ধ, মাঠে কাশফুলের সাদা ঢেউ, তখন আমরা সুদূর কানাডার এডমন্টন শহরে করি মা দুর্গার আরাধনা। প্রতিবারের মত এবারও এডমন্টন বেঙ্গলী অ্যাসোসিয়েশন আয়োজন করল মাতৃ আরাধনা ২০ ও ২১ শে অক্টোবর এ। সব দৈনন্দিনতা থেকে ছুটি নিয়ে প্রবাসে আমরা বাঙালি মেতে উঠেছিলাম আনন্দোৎসবে!
পুজোর অনেক আগে থেকে চলে উৎসবের পরিকল্পনা। শরতের নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা দেখতে পেলাম, কিন্তু তার মাঝেই বরফপাতও হয়ে গেল, হলদে পাতা ঝরার মরশুমে। তাপমাত্রা নেমে গেল মাইনাসে। হঠাৎ মায়ের আশিসে তাপমান সতেরো আঠেরো।

 

পুজোর আগের দিন উৎসাহী স্বেচ্ছাসেবী সদস্যদের উদ্দীপনায় কম্যুনিটি হলে একে একে তৈরী করা হল প্রতিমার মন্ডপ। সারা বছর স্থায়ী দুর্গা প্রতিমা সংরক্ষিত থাকে আমাদের ক্লাবে। সাজানো হল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মঞ্চ। একদিকে চলছে পুজোর মালা গাঁথা, অন্য দিকে পরের দিনের এলাহী ভোজের তরিতরকারি কাটা। শেষে গরম ডিমের ঝোল আর ভাত খেয়ে অনেক রাতে বাড়ি ফেরা।

 

 

পরদিন সপ্তমী ও অষ্টমী। সকাল সকাল সবাই নতুন কাপড়ে সুসজ্জিত হয়ে হলে পৌঁছে যাওয়া। পুজো দেখা, আরতী, অঞ্জলি। তারপর সারি সারি প্রদীপ জ্বালিয়ে সন্ধিপুজো। প্রসাদের থালায় ফল, সন্দেশ, নারকেল নাড়ু, খেজুর। সবাই প্রসাদ নিয়ে আবার দুপুরের খাবারের লাইনে। লুচি, ছোলার ডাল, আলু ফুলকপি, চাটনি ও মিষ্টির নিখুঁত আয়োজন। দুপুরে বাঙ্গালীদের আড্ডা চলে অনেকক্ষণ। সাথে পুরুষদের ব্রিজ প্রতিযোগিতা, মহিলারা শাড়ির স্টলে। কেউ তসর কিনলে, কেউ কাঞ্জীভরম বা কেউ লিনেন। বন্ধুরা কে কি কিনল তা দেখবার ধুম।

Advertisements

 

 

সন্ধ্যায় আবার সাজগোজ করে মায়ের সামনে বসে আরতি দেখা। রাতের মেনুতে ভাত, ডাল, আলু- পটল, চিকেন, চাটনি, সন্দেশ, কালোজাম ও পায়েস। ডিনারের পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ছোটদের গান দিয়ে শুরু হয়ে দক্ষ স্থানীয় মেয়েদের ভারত নাট্যম। শেষে সা রে গা মার অংশগ্রহণকারী বিখ্যাত দীপায়নের নানান স্বাদে গান। কেউ তাতে গলা মেলাল, কেউ সাথে নাচল সাগরপারের শিল্পীর উৎসাহ বাড়িয়ে তুলতে। অনুষ্ঠান শেষ হতে রাত সাড়ে বারোটা।
নবমী-দশমীতেও একই ভাবে উদযাপন আনন্দোৎসবের। পুজো, পুষ্পাঞ্জলী, শান্তির জল। পুজো শেষে প্রসাদ নিয়ে আবার খিচুড়ি ও লাবড়ার সুন্দর আয়োজন। কার্যনির্বাহক সমিতি প্রতিপদে তৎপর হয়ে সব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করে চলেছে।

 

সন্ধ্যায় আরতি, বিসর্জন প্রথা, সিঁদুর খেলা, মাতৃবরণের পর। চলছে তখন কোলাকুলি, শুভ বিজয়া সম্ভাসন। আনন্দ সন্ধ্যায় সবাই তখন ভেসে চলেছি। রাতের খাওয়া আরো মন ভোলানো সুস্বাদু পাঠার মাংসের সাথে। এবার স্থানীয় প্রতিভাবানদের নিয়ে ছোট সুন্দর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শেষে মন খারাপের আঁচ চতুর্দিকে। আবার হবে বছর পরে। সব কিছু পরিষ্কার করে, মাকে বিশালাকার কাঠের বাক্সে গুছিয়ে, বাসন পত্র, সব সরঞ্জাম নিয়ে ক্লাবঘরে পৌঁছে স্বেচ্ছাসেবীদের ছুটি মাঝরাত পেরিয়ে। এমন সুন্দর ভাবে আমরা প্রতি বছর মাতোয়ারা হই দুর্গা পুজো উপলক্ষে! আমাদের প্রবাসী বাঙালিয়ানা বজায় থাকুক এইভাবে এই কামনা।

 

Advertisements

Related News

Leave a Reply

Back to top button
Close