Archiveরায়গঞ্জ

ডাইনি অপবাদে ঘর ছাড়া করেছিল শরিকরা, ঘরে ফেরাল রায়গঞ্জ থানার পুলিশ

 

Nblive রায়গঞ্জঃ ডাইনি অপবাদে আতঙ্কিত ঘরছাড়াদের বাড়িতে ফেরালো পুলিশ। বসত বাড়ির জমি হাতিয়ে নিতেই ডাইনি অপবাদ দিয়ে আদিবাসী একই পরিবারের চারজনকে ঘরছাড়া করেছিল শরিকেরা। ঘরছাড়া হয়ে প্রানভয়ে রাতভর থানার বারান্দায় আশ্রয় নিয়েছিলেন আতঙ্কিত পরিবারের ওই চার সদস্য। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ থানার শীতগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের একর গ্রামে। ঘটনার পর থেকে এলাকা শুনশান। রায়গঞ্জ থানার পুলিশের তৎপরতায় পুলিশি নিরাপত্তার মাধ্যমে ডাইনি অপবাদে ঘরছাড়া আদিবাসী পরিবারকে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে তাদের বাড়িতে।

 

 

রায়গঞ্জ থানার শীতগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের একর গ্রামে সাত সদস্য নিয়ে বাস করেন সুরজমনি টুডু। ওই বসত বাড়ির জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছিল তাদের শরিক সুকুর মুর্মুদের। এনিয়ে এর আগে গ্রামে সালিশি সভাও হয়। বাড়ির পুরুষরা কাজ করতে শহরে আসেন। অভিযোগ, রবিবার বাড়িতে মহিলাদের একা পেয়ে সুকুর মুর্মু ও তার দলবল সুরজমনি টুডুদের ডাইনি অপবাদ দিয়ে তাদের মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। শুধু তাই নয়, তাদের মেরে ফেলারও হুমকি দেওয়া হয়। এরপরই সুরজমনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা প্রাণভয়ে রায়গঞ্জ থানায় আশ্রয় নেন। সারা রাত রায়গঞ্জ থানার একটি বারান্দায় রাত কাটান সুরজমনি টুডু, বাহামনি টুডু, আলো টুডু এবং বাবলু হেমব্রম।

 

 

রায়গঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করার পর পুলিশ তাদের ঘরে ফেরাতে উদ্যোগী হয়। এদিন রাতভর ওই নিগৃহীত আদিবাসী পরিবারের চারজন থানার বারান্দায় রাত কাটানোর পর আজ রায়গঞ্জ থানার পুলিশ তাদের পুলিশি নিরাপত্তা দিয়ে একর গ্রামে তাদের বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসে। গ্রামের এক আদিবাসী পরিবারকে এভাবে ডাইনি অপবাদ দিয়ে মারধর করে বের করে দেওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য রতন বর্মন জানিয়েছেন, বসত বাড়ির জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শরিকি বিবাদ চলছিল। সালিশি সভাও হয়েছিল। ডাইনি অপবাদ দিয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই। তবে ওই পরিবারকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলাম।

 

 

ঘরছাড়া আদিবাসী পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাদের সাথে শরিকদের বিবাদ চলছিল। এদিন তাদের ডাইনি অপবাদ দিয়ে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয় সুকুর মুর্মু ও তার দলবল। এখন পুলিশ তাদের ঘরে ফিরিয়ে দিয়ে গেলেও পুলিশ চলে যাওয়ার পর আবার তাদের উপর আক্রমণ হওয়ার আশঙ্কায় ভুগছেন নিগৃহীত আদিবাসী পরিবারের সদস্যরা।

Leave a Reply

Back to top button
Close