Archiveবেঙ্গল লাইভ Special

প্রয়াত ব্ল্যাক হোল থিয়োরির জনক, সময়পঞ্জিতে স্টিফেন হকিং

NBLive অপরাজিতা জোয়ারদারঃ বুধবার প্রয়াত হলেন বিশিষ্ট ইংরেজ তাত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী ও গণিতজ্ঞ স্টিফেন হকিং। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। তাঁর উল্লেখযোগ্য গবেষণার মধ্যে অন্যতম হকিং বিকিরণ, পেনরোজ হকিং তত্ব, কৃষ্ণ বিবর বা ব্ল্যাক হোল সহ আরও অনেক । হকিং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের লুকাসিয়ান অধ্যাপক হিসেবে ১ অক্টোবর, ২০০৯ তারিখে অবসর নেন। তিনি কেমব্রিজের গনভিলি এবং কেয়াস কলেজের ফেলো হিসাবেও কাজ করেছেন। এমায়োট্রফিক ল্যাটারাল স্ক্লেরোসিস বা লাউ গেহরিগ রোগ এর জন্য ক্রমাগতভাবে শারীরিক ভাবে অচল হয়ে পড়েন তিনি। তবুও তিনি তাঁর গবেষণা কার্যক্রম সাফল্যের সঙ্গে চালিয়ে যান। তিনি পন্টিফিকাল একাডেমি অব সায়েন্সের আজীবন সদস্য ছিলেন। পাশাপাশি তিনি রয়েল সোসাইটি অব আর্টসের সম্মানীয় ফেলো ছিলেন। ২০১৪ সালে তাঁকে নিয়ে একটি চলচ্চিত্র তৈরি হয়, যেটির নাম থিওরি অব এভরিথিং।

একনজরে সময়পঞ্জিতে স্টিফেন হকিংঃ 

৮ই জানুয়ারি, ১৯৪২ – ইংল্যাণ্ডের ফ্র‍্যাঙ্ক হকিং যিনি পেশায় একজন বায়োলজিস্ট ও ইসোবেল হকিং যিনি মেডিক্যাল রিসার্চ সেক্রেটারির চার সন্তানের মধ্যে সর্বজ্যেষ্ঠ হিসেবে জন্মগ্রহন করেন স্টিফেন হকিং।

১৯৫২ – সেন্ট অ্যালবানস স্কুলে ভর্ত্তি হন।

১৯৫৯-অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে ভর্ত্তির জন্য স্কলারশিপ পান। এখান থেকেই নেচারাল সায়েন্সে স্নাতক হন তিনি।

১৯৬২- কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকস্তরে কসমোলজিতে রিসার্চ শুরু করেন।

 

১৯৬৩- মাত্র ২১ বছর বয়সে একপ্রকার মোটর নিউরন রোগ এ.এল.এসের বা এমায়োট্রফিক ল্যাটারাল স্ক্লেরোসিস বা লাউ গেহরিগ রোগ – জন্য ক্রমাগতভাবে সম্পূর্ণ অথর্বতার দিকে ধাবিত হতে থাকেন তিনি। শারীরিক অসুস্থতা এমন পর্যায়ে যায় যে চিকিৎসকেরা জানিয়ে দেন আর মাত্র ২ বছর বাঁচবেন তিনি।

১৪জুলাই ১৯৬৫- কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মডার্ন ল্যাঙ্গুয়েজ এর স্টুডেন্ট জেন উইল্ড এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি।

১৯৬৭- এই দম্পতীর প্রথম সন্তান রবার্ট এর জন্ম হয়।

১৯৭০ – দ্বিতীয় সন্তান লুসির জন্ম।

১৯৭৪- রয়াল সোসাইটির ফেলো হিসেবে স্টিফেন হকিং এর নাম মনোনীত হয় মাত্র ৩২ বছর বয়সে।

১৯৭৯- ম্যথেমেটিক্স বিষয়ে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের লুকাসিয়ান অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। এই পদে তার আগে একসময়ে স্যার আইজাক নিউটন ছিলেন , ২০০৯ সাল পর্যন্ত স্টিফেন হকিং এই পদে ছিলেন।
এই সালেই তৃতীয় সন্তান তিমোথি জন্ম গ্রহণ করেন।

১৯৮৫- জেনেভা হাসপাতালে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্ত্তি হন। অপারেশন এর পর সুস্থ্য হলেও বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন তিনি। পরের বছর থেকেই তিনি ইলেক্ট্রনিক ভয়েজ সিন্থেসাইজার এর মাধ্যমে কমিউনিকেট করা শুরু করেন, যা তাকে রবোটিক ভয়েজ এর ট্রেডমার্ক এনে দেয়।

১৯৮৮- সাধারণ মানুষের জন্য প্রকাশিত হয় “এ ব্রিফ হিস্ট্রি অফ টাইম” যা ইন্সট্যান্ট বেস্ট সেলারের তকমা পায়।

১৯৮৯ – কুইন এলিজাবেথ ২ এর দ্বারা সম্মানিত হন।

১৯৯৫- নার্স এলেন ম্যাসন এর সাথে দ্বিতীয় বার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

২০০৭- এলেন ম্যাসন এর সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে।

২০১৪- জেন হকিং রচিত “ট্র‍্যাভেলিং টু ইনফিনিটি- মাই লাইফ উইথ স্টিফেন” অবলম্বনে তৈরি অস্কারপ্রাপ্ত ছবি “থিওরি অফ এভরিথিং” এর মাধ্যমে ফের একবার এই মহান ব্যক্তিত্বের জীবনের নানা বিষয়ে আলোকপাত করা হয়।

 

ছবি সৌজন্যে- সুদর্শন পট্টনায়ক

 

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button