লাইফ স্টাইল

অধিকাংশ সময় একনাগাড়ে ল্যাপটপ বা কম্পিউটারে কাজ করার প্রবণতা অজান্তেই বাড়াচ্ছে স্বাস্থ্যের ঝুঁকি!

একটানা দীর্ঘক্ষন কম্পিউটার বা মোবাইলে কাজ করেন? কি কি সমস্যা হতে পারে জেনে নিন। প্রতিকারের উপায়ই বা কি কি

Bengal Live ডেস্কঃ 

সমস্যাঃ অতিমারীর আবহে শিক্ষা থেকে চাকরি, খেলা থেকে রাজনীতি সমস্ত কাজকর্ম অনলাইন হয়ে যাওয়ায় অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইলের প্রতি আসক্তি।

মাথার যন্ত্রণাঃ যাঁরা কম্পিউটারে বসে দীর্ঘক্ষন কাজ করেন তাঁরা অনেকেই একমনে স্থির হয়ে কাজ করেন। ফলত, ঘাড় ও মাথার পেশির সঞ্চালন ঠিক মতো হয় না। সেই কারণে মাথা ধরা, মাথা ব্যথার মতো শারিরীক যন্ত্রণার সৃষ্টি হয়।

শরীরে বাসা বেঁধেছে কোন ব্যাধি? জিহ্বার রং চিনে বুঝে নিন

কোমরের যন্ত্রণাঃ অনেক্ষন বসে একটানা কাজ করলে কোমড় ধরে যায়। কোমরে পীড়া অনুভব হয়।

পিঠের ব্যাথাঃ কম্পিউটার বা ল্যাপটপে কাজ করার সময় সোজাভাবে না বসে অনেকেই গা এলিয়ে কাজ করেন। এরফলে শিরদাঁড়া ও সমগ্র পিঠে অসহ্য যন্ত্রণার উদ্ভব হয়।

চোখের সমস্যাঃ একপলকে দীর্ঘক্ষন ল্যাপটপ বা মোবাইলে কাজ করলে আপনি হতে পারেন ভিশন সিনড্রোমের ভুক্তভোগী। চোখের পলক না ফেললে শুকিয়ে যেতে পারে অশ্রুগ্রন্থি।

কার্পাল টানেল সিন্ড্রোমঃ মাউসে একটানা আঙুল প্রেস করে কাজ করার প্রবণতা ডেকে আনতে পারে আঙুলের বিবশতা বা আঙুল কাঁপুনির মতো রোগের, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলে কার্পাল টানেল সিন্ড্রোম।

সকাল হলেই বাড়ির সামনে বাঁশি বাজান গীতা লিপি করুণা স্বপ্না ও কবিতারা

মেদ বৃদ্ধির সমস্যাঃ কম্পিউটারে বসে বসে কাজ করার ফলে নড়াচড়াও অনেকটাই কমে যায়। উপরন্তু ফ্যাট জমে বাড়তে থাকে শরীরের মেদের পরিমাণ।

শিশুদের মনোযোগ নষ্ট, সম্পর্কের বন্ধন পরিণতি পেয়েছে যান্ত্রিকতায়ঃ স্মার্টফোন ও কম্পিউটার গেমের দৌরাত্ম্যে শিশুদের স্বভাব দিনকেদিন বিদঘুটে প্রকৃতির হয়ে যাচ্ছে। শিশুরা হারিয়ে ফেলছে খেলাধূলার বাল্যকাল। বন্ধুবান্ধব-আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ, খোঁজখবর নেওয়া বন্দী হয়েছে মুঠোফোনে।

অবসাদঃ ৬-৭ ঘন্টা দীর্ঘক্ষন কম্পিউটারে কাজ করার ফলে ব্রেইন অ্যাট্রাকশন তো হয়ই। তার সাথে আসে ক্লান্তি। তার মধ্যে অধিকাংশ বিষয় কম্পিউটার কেন্দ্রীক হওয়ায় কাছের মানুষ গুলোকে সময় দেওয়া হয়ে ওঠে না। বাড়ে মানসিক অবসাদের পরিমাণ।

বর্ষ-বরণ – আভা সরকার মন্ডল

প্রতিকারঃ কর্মব্যস্ততার মধ্যেও সময় বের করে আমাদের পেশির নিন্মলিখিত এক্সারসাইজ গুলো অবশ্যই করতে হবে।

কম্পিউটারে বসে বসে কাজ করার ফাঁকে ৩০ মিনিট পরপর ৫ মিনিট হাঁটুন। এতে পা, ঘাড়, কোমর ও মাথার পেশির সঞ্চালন হওয়ায় লাঘব হবে পেশির যন্ত্রণা।

কম্পিউটারে কাজ করাই যাদের পেশা, চিকিৎসকেরা তাঁদের প্রায়শই বলে থাকেন ২০-২০-২০ নিয়মের কথা। এই নিয়মে বলা হয়েছে, কম্পিউটারে কাজ করার সময় ২০ মিনিট অন্তর ২০ ফিট দূরের বস্তুর দিকে ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকতে। এবং একটানা কাজ করার সময় মাঝে মাঝেই চোখের পলক ফেলতে হবে। এতে চোখের ব্যাথা কমার পাশাপাশি, পিচ্ছিল থাকবে চোখের অশ্রুগ্রন্থি।

আপনি যেখানে বসে কম্পিউটারে কাজ করেন সেখানে আপনার মাথার উচ্চতা থেকে কিচুটা নীচে স্থাপন করুন কম্পিউটারের টেবিল। যাতে কম্পিউটারের আলো সোজাসুজি আপনার চোখে এসে না পরে। চেষ্টা করুন মোবাইল বা কম্পিউটারের বিভিন্ন বিষয় মিনিমাম ফন্টে দেখার। সাথে ডিভাইস গুলিতে কম উজ্জ্বলতায় কাজ করার চেষ্টা করুন।

বিধায়ক নির্বাচিত হলে কী কী করবেন কানাইয়ালাল আগরওয়াল? ইস্তেহার প্রকাশ করে জানালেন তিনি

সকালে হাঁটার অভ্যাস করুন। শিশুদের মোবাইল ঘাঁটার অভ্যাস পাল্টাটে শিশুদের মাঝে মাঝে ঘুরতে নিয়ে যান। পাশাপাশি শিশুদেরকে খেলাধূলার স্বাধীনতা দিন। সেইসাথে  আপনার বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনদের ফোনে বা ল্যাপটপে খুব প্রয়োজন না থাকলে শারিরীক উপস্থিতিতে দেখা-সাক্ষাৎ করে আসুন। এতে মানসিক চাপ কমার পাশাপাশি কমবে মানসিক অবসাদ।

Leave a Reply

Back to top button