লাইফ স্টাইল

গরম থেকে বাঁচতে ফ্রিজের ঠান্ডা জল খাওয়া ঠিক কতটা ক্ষতিকারক ? জানুন বিশদে।

Bengal Live ডেস্কঃ  গরমে ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফিরেই ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা জল বের করে খান? এতে সাময়িক আরাম পেলেও এটি আপনার শরীরে ডেকে আনছে মারাত্মক ক্ষতি। এর থেকে দেখা দিতে পারে বিভিন্ন দৈহিক সমস্যা।আয়ুর্বেদে ঠান্ডা জল খাওয়ার ব্যাপারে কড়া নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এর ফলে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতায় ঘটতে পারে ব্যাঘাত। বিশেষ করে খাবারের সঙ্গে ঠান্ডা জল বা যে কোনো ঠান্ডা পানীয় খেলে তা পরিপাকের কাজে বাধা দেয়। দেখা দেয় নানান শারীরিক সমস্যা।

অধিকাংশ সময় একনাগাড়ে ল্যাপটপ বা কম্পিউটারে কাজ করার প্রবণতা অজান্তেই বাড়াচ্ছে স্বাস্থ্যের ঝুঁকি!

হার্ট রেটের সমস্যাঃ

অতিরিক্ত ঠান্ডা জল খেলে দাঁতের ভেগাস নার্ভের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়ে । আমাদের স্নায়ুতন্ত্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হলো এই ভেগাস স্নায়ু। ঠান্ডা জল ভেগাস স্নায়ুকে উদ্দীপিত করে তোলে। ফলে হৃদগতি কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

হজমের ক্ষেত্রেঃ

বেশী পরিমাণে ঠান্ডা জল পান করার প্রভাবে রক্তনালী সংকুচিত হয়ে পরতে পারে। শুধু তাই নয়, এর ফলে দেখা দিতে পারে হজমের সমস্যা। খাদ্য গ্রহনের পর হজমের সময় খাদ্যের অনেক পুষ্টিগুণ আমাদের দেহে মিশতে থাকে। অতিরিক্ত ঠান্ডা জল সেই ক্রিয়াকে বাধা দেয়।

স্বাদ বদলাতে বানান লাউয়ের পায়েস। জেনে নিন পদ্ধতি।

হৃদরোগের সম্ভাবনাঃ

ঠান্ডা জল পান করলে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় হার্টের। গরম থেকে এসেই ঠান্ডা জল পান করলে শরীরের বিভিন্ন শিরা উপশিরা সংকুচিত হতে থাকে। ফলে স্বাভাবিক ভাবে রক্ত সঞ্চালনে হার্টের উপর বাড়তি চাপ পরে। ফলে দীর্ঘমেয়াদী জটিল হৃদরোগ দেখা দিতে পারে।

দাঁতের ক্ষতিতেঃ

ঠান্ডা জল দাঁতের এনামেলের ক্ষতি করে। প্রচন্ড গরম থেকে সরাসরি ঠান্ডা জলের সংস্পর্শে আসা মাত্রই দাঁতের বহিরাবরণ সংকুচিত হয়। ফলে এনামেলে ফাটল ধরে। এছাড়াও অতিরিক্ত ঠান্ডা জল মাড়ি ক্ষয়ের অন্যতম একটি কারণ।

আমের সময়ে খান আমের লস্যি। জেনে নিন রেসিপি।

ঠান্ডা লাগার সমস্যাঃ

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবার খাওয়ার পরে ঠান্ডা জল খাওয়া একেবারেই উচিত নয়। এর ফলে শ্বাসনালীতে শ্লেষ্মার অতিরিক্ত আস্তরণ তৈরি হয় যা থেকে সংক্রমণের সম্ভাবনা থেকেই যায়। এছাড়া ঠান্ডা জল থেকে সহজে ঠান্ডা লাগার সম্ভাবনা থাকে। ফলে যারা টনসিল এর সমস্যায় ভোগেন তাদের ঠান্ডা জল এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।

গর্ভপাতের সম্ভাবনাঃ

গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত ঠান্ডা জল পান করলে গর্ভপাতের ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঠান্ডা জল খেলে জরায়ুর সংকোচন হয়। সেক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত ঠান্ডা জল এড়িয়ে চলাই ভালো।

মেদ ঝড়াতে এক্সারসাইজের আগেই এক কাপ কড়া কফি! জানুন বিশদে।

এছাড়া, ব্যায়াম বা ওয়ার্কআউটের পর কোনো ঠান্ডা পানীয় পান করা উচিত নয়। কারণ, ওয়ার্কআউটের পর দৈহিক তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটাই বেড়ে যায়। সেই সময় ঠান্ডা জল খেলে দেহের তাপমাত্রার সঙ্গে বাইরের তাপমাত্রার সামঞ্জস্য বজায় থাকে না। ফলে দেখা দিতে পারে হজমের সমস্যা। বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরচর্চার পর উষ্ণ জল পান করাই ভালো। কারণ ঠান্ডা জল দেহে দ্রুত শোষিত হয়। এতে দেহের পর্যাপ্ত জলের চাহিদাও পূরণ হয়না। সেই ক্ষেত্রে স্বল্প গরম জল পর্যাপ্ত চাহিদা পূরন করতে সক্ষম।

Related News

Leave a Reply

Back to top button