পোর্টজিন

“আমরা আর কতদিন চোখ ফিরিয়ে থাকবো?” লিখেছেন ঐশ্বর্য্য কর্মকার

Bengal Live পোর্টজিনঃ পোর্টজিন কি? পোর্টজিন একটি অনলাইন ম্যাগাজিন। প্রতি সপ্তাহের রবিবার এটি বেঙ্গল লাইভের (bengallive.in) এর পোর্টজিন বিভাগ থেকে প্রকাশিত হয়।

bengal live portzine Aishwarya karmakar

 

১৯৯৩ সালে নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় দুর্ভিক্ষপীড়িত সুদানের একটি ছবি ছাপা হয়েছিল ” শকুন ও ছোট্ট মেয়েটি “।

শিশুটি রাষ্ট্রপুঞ্জের ত্রাণ শিবিরে পৌঁছাতে চাইছেন , তার পিছনে একটি শকুন তাক করে বসে আছে শিকারের জন্য। চিত্রগ্রাহক কেভিন কার্টার এই ছবির জন্য পেয়েছিলেন পুলিৎজার পুরস্কার। অনেক মানুষ এই ছবি প্রকাশের পর বলেছিলেন কেভিন শিশুটিকে বাঁচাতে পারতেন ছবি তোলার বদলে। পুরস্কার পাওয়ার ৪ মাস পর কেভিন আত্মহত্যা করেন।

ছবি তুলে ঘটনার সখ্য প্রমান বহন করা বনাম ছবির বিষয়বস্তুকে সংকট থেকে বাঁচানোর চেষ্টা –এই দ্বন্ধ চিত্র সাংবাদিকদের সর্বক্ষণের।

লকডাউন চলাকালীন আগের বছর দানিশ সিদ্দিকীর নাম চোখে এসেছিলো। এই নামের সাথে গোটা ভারতবর্ষ সু – পরিচিত। যেখানে মানুষের হাহাকার , সেখানেই দানিশের ক্যামেরা হাজির হতো। অতিমারীর সময়ে দিল্লিতে যে গণচিতার বাস্তবতা অস্বীকার করতে চেয়েছিলো সরকার , দানিশের ছবিগুলো ছিল সেই চিতা থেকে ছিটকে আসা সত্য।
উত্তরপ্রদেশের সারি সারি শব দেহ হোক বা গঙ্গাপাড়ের গণমৃতদেহ সৎকারের ছবি – এই সবেরই সাক্ষ্যপ্রমাণ করেছে দানিশের ছবি।

সরকারি সাহায্য না পেয়ে যে অসংখ্য পরিযায়ী শ্রমিকেরা হাজার হাজার পথ হাঁটলেন , দানিশের ছবির মাধ্যমেই তা আমরা প্রথম দেখতে পাই। ভাইরাল হয়ে যায় আগের বছরের লক ডাউন এর সেই ছবি গুলো।

মায়ানমারের রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের দুর্দশার চিত্র জনসমক্ষে তুলে ধরার জন্য পুলিৎজার পুরস্কার পান দানিশ। নিজের জীবনের সাথে জুড়তে চেয়েছিলেন ইরাক থেকে আফগানিস্তান , কাশ্মীরের মানুষদের জীবন।

সমাজের নির্মম সত্যকে তুলে ধরতো তাঁর ক্যামেরা। সংকটের মুহূর্তে মানুষের অসহায়তা দেখে আমরা মুখ ফিরিয়ে নিতে পারি , দানিশ সেই নির্ভেজাল সত্যকেই বারবার নিজের ক্যামেরাতে বন্দি করেছেন।

যে কোনো ছবিই সেই মুহূর্তের বাস্তবতার সাক্ষী। অথচ , যে চিত্র আমরা ছবিতে দেখি , তার বাইরের সমাজ , রাজনীতি , সময়ের ছাপ আমরা সব ছবিতে খুঁজে পাইনা। কিন্তু দানিশ ছবি তোলাকে নিছক তথ্যপ্রমাণে সীমাবদ্ধ রাখেনি , চিত্র সাংবাদিকতাকে এক হাতিয়ারে পরিণত করেছিলেন।

জুবায়েরের উপর হওয়া ভয়বহ আক্রমণ যে ভারতে বর্তমান চিত্র , চোখে আঙ্গুল দিয়ে দিয়েছে তাঁর ছবিগুলো। তাই হয়তো তালিবান আর আফগান সামরিক বাহিনীর সংঘর্ষের সময়ে মানুষের কথা ভেবেই ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন দানিশ।

যে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়াতে পড়াশোনা করেছিলেন দানিশ , মৃত্যুর পর সেখানেই জায়গা হলো তাঁর।

আমরা অনেকেই সমাজ সচেতন। লিখি , পড়ি , শিল্পচর্চার সাথে আমাদের একটা যোগ আছে। কিন্তু ক জন আমরা এই অজস্র অভুক্ত , কোনঠাসা মানুষদের সত্য সামনে তুলে ধরতে পারি ? দানিশ এবং তাঁর তোলা ছবি গুলোই আমাদের এক রূঢ় বাস্তবের সামনে দাঁড় করিয়েছে।

 

 

 

 

কীভাবে লেখা পাঠাবেন?
নীচে উল্লিখিত হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার কিংবা ইমেল আইডিতে লেখা পাঠাতে পারবেন।
হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার~ 9635459953
ইমেল আইডি~ bengalliveportzine@gmail.com
লেখার সঙ্গে নিজের নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর এবং একটি ছবি পাঠানো আবশ্যক।
ভ্রমণ কাহিনীর সঙ্গে নিজের তোলা দুটো ছবি পাঠাতে হবে।

Related News

Leave a Reply

Back to top button