পোর্টজিন

অশরীরি – দীপ্তি রায় চৌধুরী

Bengal Live পোর্টজিনঃ পোর্টজিন কি? পোর্টজিন একটি অনলাইন ম্যাগাজিন। প্রতি সপ্তাহের রবিবার এটি বেঙ্গল লাইভের (bengallive.in) এর পোর্টজিন বিভাগ থেকে প্রকাশিত হয়।

horror story bangla bengal live portzine

বৈশাখ মাসে প্রচন্ড গরম, রাজা, অরিত্র ঠিক করে কটা দিন জঙ্গলে কাটিয়ে আসবে, ওখানকার আবহাওয়া মনোরম। দুজনেই ছুটির দরখাস্ত করে, ছুটি মঞ্জুর হয়। পাড়ার বন্ধু সুদীপ আর নিলয়কেও সঙ্গে নেয়। চার বন্ধু মিলে একটা গাড়ি ভাড়া নেয়, ঠিক হয় জয়ন্তীতে যাবে।
চার বন্ধু আনন্দ করতে করতে রওনা দেয়, ওরা প্রথমে আলিপুরদুয়ারে যায়, সেখানে পৌঁছিয়ে পাগলা বাবার হোটেলে মধ্যাহ্নভোজনের পরে ওরা বেরিয়ে পড়ে জয়ন্তীর উদ্দেশ্যে। দুদিকে ঘন জঙ্গল, দিনের বেলাতেও এখানে সূর্যের প্রবেশ নিষেধ। ঝিঁঝিঁপোকার কনসার্ট বেজে চলেছে ছেদহীন ভাবে। ওদের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় সজাগ হয়ে ওঠে। এই বুঝি কোন জন্তু এসে ওদের পথ রোধ করে দাঁড়ায়, হয়তো জোড়া জোড়া চোখ অলক্ষ্যে ওদের উপরে নজর রাখছে, ভাবতে ভাবতেই একটা বারকিং ডিয়ার রাস্তা পার হয়ে গেল- দূর থেকে হাতির বৃংহতি শোনা গেল।দুপুর নাগাদ ওরা জয়ন্তী নদীর ধারে একটা রিসোর্টে উঠলো। নদী এখন ক্ষীণকায়া। পায়ের পাতা ডোবা জল সূর্যালোকে ঝিকমিক করছে। বিস্তীর্ণ বালুচর! বর্ষাকালে নদী যুবতী কল্লোলিনী। বিকেল বেলায় ওরা জঙ্গল সাফারিতে যায়। হঠাৎ কালবৈশাখীর ঝড় ওঠে, ঘন কালো মেঘ ধেয়ে আসে বজ্রবিদ্যুৎ সহ। বড় বড় মহীরুহ ঝড়ের ধাক্কায় মাথা নোয়ায়। মহীরুহে বাধা পেয়ে ঝড় শঙ্খনিনাদ তোলে। এরকম পরিস্থিতিতে ওরা কখনও পড়েনি। ভয় পেয়ে সকলে ইষ্টনাম জপ করে। কিছুক্ষণের মধ্যে ঝড় থামে কিন্তু প্রবলবেগে বৃষ্টিপাত শুরু হয়। বৃষ্টি থেমে গেলে গাড়ি কাদায় আটকে যেতে পারে তাই ওরা বৃষ্টির মধ্যেই ফিরে চলে। রিসেপশনে চা আর আলুর চপের অর্ডার দিয়ে ওরা ফ্রেশ হয়ে নেয় তারপর সকলে বসে আড্ডা জমায়। রাজা বলে “আজকের পরিবেশটা বেশ ভূতের গল্পের অনুকূল। আমাদের স্টকে যত ভূতের গল্প আছে সব বলব আমরা কেমন!” সকলে সমস্বরে সম্মতি জানায়। অরিত্র বলে, “প্রথমে আমি বলব।” চা, আলুর চপ সহ গল্পের আসর জমে ওঠে।অরিত্র বলে, “আমার জ্যাঠাই নতুন বাড়ি করেছে, গৃহপ্রবেশ হয়ে গিয়েছে কিন্তু ইলেক্ট্রিকের কাজ কিছু বাকি আছে।সময়টা সন্ধ্যা, ইলেকট্রিক মিস্ত্রি বাড়ির পিছনে কাজ করছিল, হঠাৎ ছেলেটি বিবর্ণ মুখে ছুটে আসে- কাঁপতে কাঁপতে বলে, পাশের বাড়ির আম গাছের উপরে সাদা কাপড় পরা বাচ্চা কোলে একটা বউ বসে আছে।শুনে সকলে ছুটে যায় কিন্তু কিছু দেখতে পায় না। সেই রাত্রে আমার দিদি-জামাইবাবু ভয় পায়, ওদের দুজনেরই মনে হয় কেউ যেন ঘরের মধ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।”
নিলয় বলে ওঠে, “আমার ছোট মামাকেও ভুতে ঢিল মেরেছিল, বাড়ির পিছনে শৌচালয় থেকে বেরোতেই চারপাশে অনেক ঢিল পরছিল, অবশ্য মামার গায়ে লাগেনি।”
এইরকম গা-ছমছমে পরিবেশের মধ্যে হঠাৎ দরজায় টোকা পড়ে। সুদীপ উঠে দরজা খুলতেই পচা গন্ধ সহ হিমশীতল হাওয়া ঘরে ঢুকে পড়ে, সুদীপের সঙ্গে সকলের দৃষ্টি দরজার দিকে ধাবিত হয়, সকলে দেখতে পায় সাদা কাপড় পড়া, চুল ছাড়া এক মহিলা পিছন ফিরে দু হাত তুলে বাঁচাও-বাঁচাও বলে নদীর মধ্যে দিয়ে ছুটে পাহাড়ের গায়ে মিলিয়ে যায়। জয়ন্তী পাহাড় আর নদী তখন জোৎস্না মেখে রহস্যময়ী। অরিত্ররা রিসেপশনে ঘটনাটা জানায়। ভদ্রলোক বলেন, “আপনারা ঘরে যান সকালে সব বলবো।” পরদিন অরিত্ররা রিসেপশনে গিয়ে জানতে পারে দু’বছর আগে একদল টুরিস্ট এসেছিল, তারা জঙ্গল সাফারিতে যায়, একজন মহিলা রিসর্টে থেকে যায় মাথাধরার জন্যে, কিছুক্ষণ পরে ঐ মহিলা নদীর ধারে বেড়াতে যায়।বাকি লোকেরা ফিরে এসে তাকে আর খুঁজে পায় না, সেই থেকে ওই তারিখে এই রকম দৃশ্য দেখা যায়। বলাবাহুল্যঅরিত্ররা সেই দিনই জয়ন্তী ছাড়ে।

 

কীভাবে লেখা পাঠাবেন?
নীচে উল্লিখিত হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার কিংবা ইমেল আইডিতে লেখা পাঠাতে পারবেন।
হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার~ 9635459953
ইমেল আইডি~ bengalliveportzine@gmail.com
লেখার সঙ্গে নিজের নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর এবং একটি ছবি পাঠানো আবশ্যক।
ভ্রমণ কাহিনীর সঙ্গে নিজের তোলা দুটো ছবি পাঠাতে হবে।

Related News

Leave a Reply

Back to top button