পোর্টজিন

নয়ন মালিক-এর লেখা “ত্যাগ”

Bengal Live পোর্টজিনঃ পোর্টজিন কি? পোর্টজিন একটি অনলাইন ম্যাগাজিন। প্রতি সপ্তাহের রবিবার এটি বেঙ্গল লাইভের (bengallive.in) এর পোর্টজিন বিভাগ থেকে প্রকাশিত হয়।

nayan malik bengal live portzine

 

যাদব আধঘন্টা ধরে প্লাটফর্মে বসে বসে শুধু দেখছে আর শুনছে । মেয়েলি কন্ঠে এনাউন্স হচ্ছে, বিপুল শব্দের সম্ভার নিয়ে ট্রেন আসছে, থামছে আবার চলার মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে ছুটে চলে যাচ্ছে অসীমের দিকে । লোকজনও নামছে উঠছে । ট্রেনের সঙ্গে সঙ্গে তাদের হই হট্টগোল প্ল্যাটফর্ম মুখরিত। সবাই ব্যস্ত । কারুর মিনিট কাল বিলম্ব করার সময় নেই । না মানুষজন ,না ট্রেনগুলো । সবাই চলার কঠিন শপথ নিয়েছে সময়ের কাছে।
তারই কোনো তাড়া নেই। জবাবদিহিও করতে হয় না সময়ের কাছে। ঘন্টা মিনিট সেকেন্ড ছুটে চলা কাঁটাগুলো তার কাছে মূল্যহীন। তাদের পরোয়া করেনা । আধঘন্টা ধরে প্লাটফর্মে বসে আছে। এখনো আধঘন্টা বসে থাকতে হবে। পাঁচটা পনেরোতে ট্রেন।
দেখতে দেখতে বেশ ভালো লাগার মোহে যাদব কে আচ্ছন্ন করে । এই পড়ন্ত বিকেলে চঞ্চলতার ছাপ গোটা প্ল্যাটফর্ম জুড়ে । নিজের যৌবনের কথা স্মৃতিতে ধরা পড়ে। এক সময় সেও দূরন্তপনা দেখিয়েছে। ট্রেন প্লাটফর্ম স্পর্শ করার আগেই যৌবনের তারুণ্যে লাফিয়ে নেমে পড়ত। টিকিট না কেটে টিটিকে ফাঁকি দেবার তখন দারুন মজা ছিল। ভাবলে হাসি পাই। আজ সে যৌবন পেরিয়ে বৃদ্ধ। সামনের মাসে পঁয়ষট্টি তে পা দেবে । এখন চলন্ত ট্রেন থেকে নামার কথা ভাবলেই গা শিউরে ওঠে। শরীরে এখন আর তেমন জোর নেই। বেশিক্ষণ হাটতে হলেই বুকটা ধরফর করে। চোখেও ভালো দেখতে পায়না । এমন হয়েছে চশমা ছাড়া পেপারই পড়তে পারেনা। লাঠি এখনো ধরতে হয়নি, শরীরের যে অবস্থা আর হয়তো বছর খানেক। তারপর লাঠির উপর ভর করেই বাকি জীবনটা কাটিয়ে দিতে হবে। লাঠিই তখন হবে তার প্রধান অবলম্বন।
আপনার ট্রেন আসছে।
যাদব উঠে দাঁড়ালো। পাশে বিক্রিরত ঝালমুড়িওয়ালাকে কথাটা বলে রেখেছিল। সেই কথাটা বলল। এই বয়সে কানের দোষ দেওয়া যায় না। এনাউন্স ঠিকমত শুনতে না পেয়ে ট্রেন মিস হয়ে গেলে আরও এক দেড় ঘন্টা । প্লাটফর্মে এখন আর তেমন ভিড় নেই । এই রুটে যাত্রী কম । যাদব ব্যাগটা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল, বাধা দিল ঝালমুড়ি ওয়ালা । ব্যাগটা সে ট্রেনে তুলে দিতে চাই । যাদব আপত্তি করেছিল, ব্যাগটা মোটেও তেমন ভারি ছিলনা । দুটো জামা প্যান্ট থালা আর গ্লাস । সেইসঙ্গে পাঁচ টাকা দামের ক্রিম বিস্কুট। জলের বোতল ও নিতে ভোলেনি । পৌঁছাতে দেরি হলে বিস্কুট বের করে খাওয়া যাবে । এইটুকু ভাড়ি যাদব খুব বইতে পারে। কিন্তু ঝাল মুড়িওয়ালা কোন কথা শুনলে না । যাদব খালি হাতে সামনে এগিয়ে গেল।
যাদব বাঁদিকে ফাঁকা শূন্যতার দিকে তাকালো। এখনো ট্রেনটা চোখের গোচরে আসেনি। তীব্র তীক্ষ্ণ বাঁশির আওয়াজ পাওয়া গেছে মাত্র। আধ মিনিটের মধ্যে বিপুল শব্দের সম্ভার নিয়ে ট্রেন এসে থামল । নামার এত ব্যস্ততা – উঠাই দাই। যাদব গেটের ধার ঘেঁষে দাঁড়ালো। নামা হালকা হতে যাদব সাবধানে ট্রেনে উঠে পরল। ঝালমুড়িওয়ালা পিছনেই ছিল। যাদব উঠে যেতে ব্যাগটা তার হাতে এগিয়ে দিল। সঙ্গে সঙ্গে ট্রেনটা একটা লম্বা বাঁশির শিহরন তুলে ধেয়ে চললো পরবর্তী স্টেশনের দিকে । যাদব মলিন মুখে ঝালমুড়িওয়ালার দিকে তাকিয়ে রইল।
লোকটা বেশ ভালো। যাদবের আপত্তি সত্ত্বেও এক ঠোঙা ঝালমুড়ি দিলে । যাদব দাম দিতে চেয়েছিল ,কোনমতেই নিলে না। মনটা খচখচ করে। ফ্রিতে নিতেই তার অনিচ্ছা।
কামরাটা ভিড় ছিল না । অনেক সিট খালি। যাদব এগিয়ে গিয়ে জানালার পাশে গিয়ে বসল।
ট্রেনটা পাওয়াই এখন অনেক নিশ্চিন্ত । হোক না রাত । মহড়া স্টেশনে নেমে বাকি রাতটা প্লাটফর্মে কাটিয়ে , সকালবেলায় কাউকে জিজ্ঞেস করে হাঁটা দিলেই হল। সকাল সকাল জয়নগর পৌঁছাতে কতক্ষণ । সকালবেলায় হাঁটা স্বাস্থ্যের পক্ষেও উপকার।
তুমি ?
যাদব কথাটা লক্ষ্য করে সামনের সিটের দিকে তাকাল । একজন ভদ্রমহিলা। গায়ে হালকা রঙের শাড়ি , চোখে চশমা। ভীষণ চেনা চেনা লাগে ।যাদব তাড়াতাড়ি বুক পকেট থেকে চশমাটা বের করে নিল। কাঁচে মুখের ভাব নিয়ে জামার শেষ প্রান্ত দিয়ে মুছে নিল। চশমাটা পড়তেই চিনতে পারে ..রানু !
জীবনের এতোগুলো বসন্ত অতিক্রম করে পড়ন্ত বেলায় রানুকে দেখে যাদব কম অবাক হয় নি। বিস্ময় মাখানো স্বর বেরিয়ে এল গলা দিয়ে।
রানু —-তুমি –?
চিনতে পেরেছ ? কেমন আছো ? রানু এক চিলতে হেসে জবাব দিল।
যাদবের মুখে কথা সরে না । অপলক নয়নে তাকিয়ে থাকে রানুর মুখের দিকে। সেই শান্ত , সেই স্নিগ্ধ, সেই সৌন্দর্যের কোমলতা মিশ্রিত মুখ। কতকাল দেখেনি। থার্ড ইয়ার শুরুতে ভুল বুঝাবুঝির মধ্যে শেষ দেখা হয়েছিল । তারপর কতদিন কতরাত ওই মুখের জন্য ছটফট করেছে, শীতলতা ভরা চোখ জোড়া মেলাবার চেষ্টা করেছে। কিন্তু হতাশার পাহাড় জমেছে বুকে তবু পাইনি। আর আজ — জীবনের শেষ লগ্নে —-
কত খারাপ হয়ে গেছো ? একেবারে বুড়ো হয়ে গেছো !
যাদব মৃদু হেঁসে জবাব দিলে
খারাপের আর দোষ কি বলো, বয়স তো কম হয়নি । তুমিও তো —-
রানু যাদবের দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস বুকে চেপে গেল ।
যা বলেছ … আমাদের কতদিন পর দেখা হল বলতো ?
ত্রিশ — চল্লিশ —
রানু সহাস্যে তাকে মাঝপথে থামিয়ে দিলে
না মশাই পাকা পঁয়তাল্লিশ বছর
রানুর কথায় যাদব হালকা আওয়াজ করে হেসে উঠল
কি ব্যাপার হাসছো যে ?
মশাই দিয়ে তোমার কথা বলার ধরণ
টা এখনো বদলায়নি দেখছি।
তোমারি বুঝি সব বদলে গেছে ?
কি জানি — সেভাবে তো কেউ বলেনি । পঁয়তাল্লিশ বছর হয়ে গেল অথচ এর আগে তোমার সঙ্গে একবার দেখা হলো না ।
চেয়েছিলে —- ?
যাদব তার মুখের দিকে তাকালো । অপ্রাপ্তির বেদনা স্বরুপ একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস চেপে গেল বুকে। নিঃশব্দে তাকিয়ে থাকে ছুটন্ত মাঠের দিকে। রানুর কথার জবাব দিল না । ছুটন্ত মাঠের দিকে তাকিয়ে একসময় নিঃসংকোচে বললে —
সেদিনের পর আর কলেজে এলে না কেন ?রানু যাদবের দিকে তাকাল ‌। তার দৃষ্টি কোথায় নিবদ্ধ অনুসন্ধান করার চেষ্টা করলো। ছুটন্ত প্রকৃতির মধ্যে কোথায় যে তার অগোছালো দৃষ্টি ঠিক ঠাহর করতে পারল না ।অনেকটা স্বগোক্তির সুরেই বলে উঠল–
সেদিন কলেজের পর আরো যে একটা ভীষণ আঘাত আমার জন্য তোলা ছিল ভাবি নি। বাড়ি গেয়েই পেলাম বাবার মৃত্যু সংবাদ । বাইক অ্যাকসিডেন্টে বাবা আর তার বন্ধু সঙ্গে সঙ্গে স্পট ডেথ। তারপর মামা আমাদের নিয়ে চলে এলো। সে বছর আর বি এ কমপ্লিট করা হলো না।
যাদব ছুটন্ত মাঠ ছেড়ে রানুর সজল চোখের দিকে তাকাল । তার চোখে জল । সেদিনের ভুল বুঝার জন্য গলায় অনুতাপের শীতল স্পর্শ।
আর আমি ভাবলাম —-
যাদব রানুর জল ভরা চোখের দিকে তাকাল। কথাটা শেষ করলো না । রানুর দুচোখ ঝাপসা হয়ে এলো । চশমাটা খুলে কাপড়ের আঁচল দিয়ে চোখ দুটো আলতোভাবে মুছে নিল ।
আমি জানি তুমি ভুল বুঝে ছিলে — ভেবেছিলে তোমায় ত্যাগ করার জন্যই কলেজ ছেড়েছি! যাদব আর্দ্র কন্ঠে বললে–
ঠিক তাই–।
অনেকটা সময় দুজনের মধ্যে আর কোন কথা নেই । দুজনেই জানালা দিয়ে বাইরে ছুটন্ত পরিবেশের দিকে তাকিয়ে। নিজেদের দুঃখ গোপন করার ব্যর্থ চেষ্টায় সংগ্রামরত । একসময় রানু কি একটা কথা বললে, যাদব ঠিক বুঝতে পারল না । সেই সময় ট্রেনটা এটা তীক্ষ্ণ বাঁশির আওয়াজ তুলে পরবর্তী স্টেশনের আগমনের কথা ঘোষণা করল। যাদব শুনতে না পাওয়ায় পুনরায় জিজ্ঞাসা করলে
কিছু বলছিলে –?
রানু চশমাটা পড়তে পড়তে হালকা স্বরে বললে
কোথায় যাবে ?
জয়নগর ।
আজকাল ওখানেই থাকো বুঝি ?
যাদব কোন উত্তর দিল না । জানালা দিয়ে স্টেশনের নামটা দেখল। নারায়নপুর । ট্রেনটা ক্ষণকাল নারায়নপুরে দাঁড়িয়ে আবার ছেড়ে দিল। বেশ কয়েকজন যাত্রী নেমে গেল আবার কয়েকজন যাত্রী উঠে এলো তাড়াহুড়ো করে। একজন যুবক যাদবের পাশে খালি সিটটা ভর্তি করতে এগিয়ে এলো ।
কিছু বললে না রানু ? রানু পুনরায় জিজ্ঞেস করল ।
যুবকটা বসে পড়েছে যাদবের পাশে। বিকেলে নিউজপেপার খুলে ডুবে গেছে খবরের দুনিয়ায়। যাদব একবার স্থির দৃষ্টিতে যুবকের দিকে তাকিয়ে, যথাসম্ভব নিচু গলায় বললে–
আমার আর থাকা থাকি — যখন যেখানে পায়, কখনো স্টেশনে কখনো প্লাটফর্মে , কখনো আবার কারোর বৈঠকখানায়।
সেকি–!
রানুর গলায় ঝরে পড়লো এক রাশ বিষ্ময়।
তোমার সংসার —!
যাদব চোখের জল গোপন করার জন্য ঘুরন্ত ফ্যানের দিকে তাকালো ।
তোমার স্মৃতিগুলো যে বড় মধুময় ছিল।
রানু স্তম্ভিত! বিষ্ময়ে বিহ্বল। অনেকটা সময় তার গলা দিয়ে কোন রা সরেনা । নির্নিমেষ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে যাদবের বয়সের ভারে ভাঁজ পড়া মুখের দিকে । এত বড় স্যাক্রিফাইস ভাবতে পারেনি।
যুবকটা বোধহয় যাদবের কথা শুনতে পেয়েছে। পেপারটা আড়াল করে মুখে মিটি মিটি হাসি।
অনেকক্ষণ দুজনের মধ্যে কোন কথা নেই। হয়তো কথা বলার খেইটা হারিয়ে ফেলেছে ।
রানুর সারামুখে উদ্বেগ, চঞ্চলতা। তার কি নামার সময় হয়েছে । ঘনঘন বাইরের দিকে তাকাচ্ছে আর ঘড়ি দেখছে। এক সময় রানুই হারানো সেই খেইটা খুঁজে পেয়ে বললে
একটা কথা বলব রাখবে ?
বল — সম্ভব হয় তা—
যাবে আমার সঙ্গে ?
কোথায় ?
আমার বাসায় । এই বয়সে তোমার অত ঘোরাঘুরি সহ্য হবে না ।
যাদবের মুখে রহস্যময় হাসি । সে সকুন্ঠিত হয়ে বললে
তোমার স্বামী কি ভাববেন।
মুহুর্তের মধ্যে রানুর মুখটা ম্লান হয়ে গেল। চোখ দুটো বুজে কিছুক্ষণ নীরবে অপেক্ষা করে। তারপর আস্তে আস্তে চোখ দুটো উন্মোচিত করে। গলায় হতাশার শীতল স্পর্শ
স্বামী ! আমার কাছেও যে তোমার স্মৃতিগুলো—
রানু আর কথাটা শেষ করতে পারেনা। তার গলাটা বুজে আসে ।
তুমিও !
যাদব অভিভূত । নিষ্পলক নয়নে তাকিয়ে থাকে রানুর শান্ত-স্নিগ্ধ মুখের দিকে। এতক্ষণ রানুর সিঁথির দিকে তাকায়নি । সিঁথি সাদা। সেখানে লাল নিশানের কোন চিহ্নই নেই ।
এতগুলো বছর একা একাই কাটিয়ে দিলে ?
তুমি ও তো—
আমার কথা বাদ দাও। আমি ছেলে। এ সমাজে মেয়েদের একলা কাটানো যে কি ঝঞ্ঝাট। তোমার সংসার চলে কি করে ?
স্কুলে একটা মাস্টারি পেয়েছিলাম। বাসাও করেছি একটা। যাবে আমার সঙ্গে ?
আর তা হয় না ।
কেন হয় না । তুমি কত দুর্বল হয়ে গেছো । এই বয়সে কে তোমায় দেখবে ।
বেশ তো এতগুলো বছর কেটে গেল । আর তো কটা দিন ।
যাদব কথাগুলো মুখে বললেও তার ভীষণ ইচ্ছে হচ্ছিল রানুর সঙ্গে যেতে , বাকি দিনগুলো রানুর কোলে মাথা রেখে কাটাতে । আবার কলেজের দিনগুলো ফিরে আসুক তাদের জীবনে। কিন্তু বড় দেরি হয়ে গেছে । এখন আর তা হবার উপায় নেই । সময় বড় কম। কালই জয়নগরে ক্যান্সার হসপিটালে ভর্তি হতে হবে । এটা লাস্ট স্টেজ । এই সময় তার আসন্ন মৃত্যু সংবাদ রানুকে দিয়ে লাভ নেই। রানু তাকে সুস্থভাবেই জানুক।
রানুর গলায় আরো একবার জিজ্ঞাসা। গলাটা তার আর্তনাদের মতো শোনালো।
যাবে না—।
না– আর তা হয় না ।
রানুর মুখটা মেঘাচ্ছন্ন আকাশের মত ভারাক্রান্ত হয়ে গেল। তার চোখ দুটো জ্বলজ্বল করে ওঠে।
তার চেয়ে না দেখা হলেই ভালো হতো । এই বয়সে কোথায় কিভাবে কাটাবে, সবসময় মনটা পরে থাকবে তোমার কাছে।
যাদব এ কথার কোন উত্তর দিল না ‌। দিতে পারেনা । চোখের জলটা গোপন করার জন্য পায়ের কাছে রাখা ব্যাগটা খুলে বিস্কুটের প্যাকেটটা বের করল।
রানু বিস্কুটের প্যাকেটটা লক্ষ্য করে আদ্র কন্ঠে বললে
এখনো এই বিস্কুট খাও ?
যাদব শান্ত গলায় বললে
কি করবো , তুমিই যে ধরিয়েছিলে।
যাদব একটা বিস্কুট বের করে এগিয়ে দিল রানুর দিকে ।
নাও—- আর কখনো খাওয়াতে পারবো কিনা জানিনা।
রানু আর নিজেকে সামলাতে পারল না। স্থান কাল পরিবেশ ভুলে ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠে।
যুবকটা সব দেখছিল আর শুনছিল। এখন আর তার মুখে হাসি নেই। মুখটা বেদনায় থমথমে। হয়তো সকলের অলক্ষ্যে দুফোঁটা চোখের জলও ফেলেছে।
যাদবের গলা তখনও শান্ত। রানুর কান্না তাকে বিচলিত করতে পারল না ।
নাও—
রানু চশমাটা খুলে চোখের জল আলতো ভাবে মুছে নিল। হাত বাড়িয়ে বিস্কুট টা নিয়ে সামান্য ই দাঁতে কাটলো।
সেই ক্যান্টিনে স্বাদ না —?
রানু আলতোভাবে ঘাটা নাড়িয়ে ব্যর্থ হাসির চেষ্টা করলো। বিস্কুট আর তার মুখে ঢুকছে না। অবশিষ্ট বিস্কুটটা সাইড ব্যাগে রেখে , একটা কাগজ বের করে কি যেন লিখলে তারপর বললে
আমি পরের স্টেশনে নেমে যাব , এটা আমার বাসার ঠিকানা, রেখে দাও যদি কখনো মনে পড়ে। যাদব হাত বাড়িয়ে কাগজটা নিয়ে ঘাড়টা একটু নাড়ল।
আস্তে আস্তে ট্রেনের গতি কমে আসছে , রানু গেটের দিকে এগিয়ে গেল। যাদবও গেল পিছুপিছু। গেটের সামনে আর কোনো যাত্রি নেই।
ট্রেনটা এক সময় দাঁড়িয়ে গেল স্টেশনে। রানু ট্রেন থেকে নেমে যাদবের ধূসর মুখের দিকে তাকিয়ে রইল । সঙ্গে সঙ্গে ট্রেনটা ছেড়ে দিল বেহলা স্টেশন থেকে । রানু হাত নাড়তে নাড়তে ক্রমশ পিছিয়ে যাচ্ছে , অনেক পিছিয়ে —। যাদবের থেকে দূরে — অনেক দূরে চলে যাচ্ছে —-রানু।
যাদবের বুকটা গভীর শূন্যতায় ভরে গেল। তার সারা মন জুড়েহাকার করে ওঠে । হঠাৎ একটা এক্সপ্রেস ট্রেন, যাদবের বুকের ভিতর আত্মনাদ কে চাপা দেয়ার জন্য বিপুল শব্দ করে ছুটে বেরিয়ে গেল। যাদব চশমাটা খুলে চোখ দুটো মুছে আবার চশমাটা পড়ে নিল। রানুর ঠিকানাটা এখন তার হাতের মুঠোয় । এতে লেগে রয়েছে রানুর পরশ, তার ভালোবাসা । এটা এখন যাদবের কাছে অনেক ভারি। এত ভার নিয়ে কিছুতেই যাদব এতটা পথ পাড়ি দিতে পারবেনা । যাদব কাগজটা ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে হাত বাড়িয়ে ফেলে দিল।
ছেঁড়া কাগজের টুকরো গুলো পাখা মেলে উড়তে —-উড়তে —চলে গেল দূরে —।
অনেক দূরে—।

 

 

 

কীভাবে লেখা পাঠাবেন?
নীচে উল্লিখিত হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার কিংবা ইমেল আইডিতে লেখা পাঠাতে পারবেন।
হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার~ 9635459953
ইমেল আইডি~ bengalliveportzine@gmail.com
লেখার সঙ্গে নিজের নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর এবং একটি ছবি পাঠানো আবশ্যক।
ভ্রমণ কাহিনীর সঙ্গে নিজের তোলা দুটো ছবি পাঠাতে হবে।

Related News

Leave a Reply

Back to top button