পোর্টজিন

বিরহ – সমর আচার্য্য

Bengal Live পোর্টজিনঃ পোর্টজিন কি? পোর্টজিন একটি অনলাইন ম্যাগাজিন। প্রতি সপ্তাহের রবিবার এটি বেঙ্গল লাইভের (bengallive.in) এর পোর্টজিন বিভাগ থেকে প্রকাশিত হয়।

bengali short story portzine sunday

 

বড় ভালো বেসেছিলাম অনিমাকে l সেই কবেকার কথা l আমি তখন সবে উনিশে পা দিয়েছি, আর ও পনেরো l প্রায় পাশাপাশি বাড়ি l
এমনি এক বসন্তের বিকেলে ফুটবল খেলতে মাঠে যাচ্ছিলাম l রাস্তায় হঠাৎ দেখা ওর সঙ্গে l আমার দিকে চেয়ে ফিক করে একটু হেসে বলে–কি ব্যাপার, আজকাল যে আর কথাই বলো না l আমি বললাম, কেন? তোর সঙ্গে দেখা হলেই কথা বলতে হবে নাকি l
ও একটু থতমত খেয়ে বলে, না তা নয়, তারপর আবার একটু মুচকি হেসে আমার দিকে কেমন একটা দৃষ্টিতে তাকিয়ে চলে গেল l
আমি ও মাঠের পথে পা বাড়ালাম l কিন্তু কেন যেন মনটা আমার অনিমার কথায় ভাবতে লাগলো l সেদিন আর খেলাতেও তেমন মন বসলো না l
  পাশাপাশি বাড়ি l দেখা তো রোজই হয় l কিন্তু কালকের বিকেলের পর থেকে আর ওকে যখন তখন দেখতে পারছি না l আর থাকতে পারলাম না l পরের দিন সকালেই ওদের বাড়ি গিয়ে ওকে জিজ্ঞাসা করলাম, কিরে কালকের পর থেকে আর তোকে দেখছি না কেন?
অনিমা একটু অভিমানের সুরে বললো, কাল আমার সঙ্গে যেমন ব্যবহার করলে তাতে কার আর মন চায় বলো?
ওর বাবা চলে আসাতে আমি আর না দাড়িয়ে চলে এলাম l এই প্রথম এমন করে দৌড়ে ওদের বাড়ি থেকে চলে আসতে হলো l অনিমার বাবা আমাকে পিছন থেকে ডাকলেন, কি অমন করে চলে যাচ্ছিস কেন? আমি কোন উত্তর না দিয়েই পালিয়ে এলাম l
এর পর থেকে ওকে একদিন না দেখলেই কেন যে মনটা এমন ছটফট করে বুজতে পারছি না l
কয়েকদিন পর সন্ধ্যায় খেলার মাঠ থেকে বাড়ি ফিরছিলাম, হটাৎ আমার বাড়ির গাঁদা ফুলগাছের আড়াল থেকে একটা ছোট্ট ঢিল এসে আমার পায়ের কাছে পড়লো l এদিক ওদিক তাকাতেই দেখলাম, অনিমা চলে যেতে যেতে বলছে, হাঁদা রাম, কিচ্ছু বোঝে না l চিঠিটা পড়ো l
সেটা ছিলএকটি প্রেমপত্র l
সেই শুরু l আমাদের মধ্যে আড়ালে আবডালে দেখা হওয়া, চোখে চোখে কথা বলা শুরু হোল l একে অপরকে খুব ভালোবেসে ফেললাম l একটি মুহূর্ত ওকে চোখ ছাড়া করতে মন চাইতো না l
প্রেম গভীর থেকে গভীরতর হয়ে উঠলো l
আমি আর অনিমা ভিন্ন ঘরের l অর্থাৎ আমি ব্রাহ্মণ আর ওরা শুদ্র l আমার বাড়ির লোক খুব গোঁড়া l তাছাড়া অনিমা চাষী ঘরের মেয়ে l
ওর সঙ্গে যে আমার বিয়ে হবে না, সে অনিমা খুব ভালো করেই জানতো l আমিই ওকে সান্তনা দিয়ে বুঝিয়ে বলেছিলাম যত বাধাই আসুক, তোমাকে আমি বিয়ে করবোই l
দিন কাটতে লাগলো কালের নিয়ম মেনে l দুজনেই নিজেদের মধ্যে অনেক পরিকল্পনা করলাম l কিন্তু কিছুতেই কিছু হলো না l অনিমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেল l ওর বাবা বোধহয় আঠারো বছর পূর্ণ হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলো l
সেদিন নদীর ধারে দুজনে গোপনে মিলে একে অপরের কাঁধে মাথা রেখে কত কাঁদলাম l ও অন্য ছেলের হাত ধরে চলে যাবে, এটা ভাবতেও পারছিলাম না l
বিয়ের দিন চলে এলো l ওর বিদায় লগ্নে আমি আর বাড়ি থাকতে পারিনি l ও যে রাস্তা দিয়ে শ্বশুর বাড়ি যাবে সেই রাস্তার মোরে দাড়িয়ে রইলাম l
বধূ সাজে সেজে অন্য ছেলের হাত ধরে অনিমা চলে গেলো l একবার ওর দিকে তাকাতে পেরেছিলাম l অনিমা ও আমাকেই খুঁজছিলো l একটু চোখের দেখা হতেই চোখ সরিয়ে নিলো l মনে হোল ও কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছে l
বুকের মাঝে আগুন জ্বলছিল l বিরহের আগুনে আমার দেহ মন তখন ক্লান্ত, অবসন্ন l আর নিজেকে দাঁড় করে রাখতে পারিনি l ওখানেই মাটিতে বসে পড়েছি অনিমার চলে যাওয়া পথের দিকে চেয়ে l
সমস্ত দেহ মন আমার যেন জ্বলছিল l কতক্ষণ পর আমার এক বন্ধু আমাকে আমাদের বাড়ি দিয়ে গেল l
           

 

 

কীভাবে লেখা পাঠাবেন?
নীচে উল্লিখিত হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার কিংবা ইমেল আইডিতে লেখা পাঠাতে পারবেন।
হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার~ 9635459953
ইমেল আইডি~ bengalliveportzine@gmail.com
লেখার সঙ্গে নিজের নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর এবং একটি ছবি পাঠানো আবশ্যক।
ভ্রমণ কাহিনীর সঙ্গে নিজের তোলা দুটো ছবি পাঠাতে হবে।

Related News

Leave a Reply

Back to top button