পোর্টজিন

জয় গোস্বামী’র রবীন্দ্রনাথ ‘পাগল রে তুই’ : কয়েকটি কথা – নাম – সুমন ব্যানার্জি

Bengal Live পোর্টজিনঃ পোর্টজিন কি? পোর্টজিন একটি অনলাইন ম্যাগাজিন। প্রতি সপ্তাহের রবিবার এটি বেঙ্গল লাইভের (bengallive.in) এর পোর্টজিন বিভাগ থেকে প্রকাশিত হয়।

suman banerjee bengal portzine
১.
জয় গোস্বামীর ব্যক্তিগত গদ্য বলা চলে ‘পাগল রে তুই’ শীর্ষক রচনাটিকে।কোন তথ্যবহুল, গ্রন্থপঞ্জী কন্টকিত বিদ্যায়তনিক প্রবন্ধ এটি নয়।কাজেই কোন নির্দিষ্ট বিষয় নির্বাচন এখানে নেই। রবীন্দ্রনাথের সমগ্র জীবন তাঁর কবি জীবন এবং সর্বোপরি একান্ত ব্যক্তিগত জীবনকে কীভাবে আলোড়িত করেছেন তা নিয়েই তিনি কিছু ভাবনাকে মেলে ধরেছেন। বুদ্ধদেব বসু চমৎকার লিখেছিলেন যে – রবীন্দ্রনাথের মহত্ত্ব তাঁর সমগ্রতা। তাঁর কোন গান, কবিতা ,গল্প বা উপন্যাসের পঙতি চয়ন করে তাঁর বিরাটত্বের পরিচয় পাওয়া অসম্ভব।কালিদাস বললেই ‘শকুন্তলা’ , গ্যেটে বলতেই ‘ফাউস্ট’ আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ বললেই বিদেশী বাদে বাঙালিদের কাছে শুধুমাত্র ‘গীতাঞ্জলি’-র কথা মনে হবে না। এই বিরাটত্ব ও সর্বোমুখিতাই বিশ্ব সাহিত্যে তাঁর অনন্যতার পরিচায়ক।
জয় গোস্বামীরও উপলব্ধি সেইরকমই। তিনি নিজেও বুদ্ধদেব বসু’র লেখার একজন মনস্ক অনুরাগী।এ কথা তিনি এই রচনাতেই স্বীকার করেছেন।আমরা এই প্রবন্ধে জয়’র এই গদ্যের নির্বাচিত কিছু ভাবনা নিয়ে আলোকপাত করব।
২.
জয় লিখেছেন যে – রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে আমার সম্পর্ক একটা সময় পর্যন্ত ছিল খোলামেলা , ব্যক্তিক অনুভূতি যাঁর সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া যায় প্রায় পারিবারিক। কিন্তু একটা সময়ের পর তা কিছুটা বদলাতে শুরু করে – ” এরপর ধীরে ধীরে এমন একটা সময়ও এলো যখন রবীন্দ্রনাথ এমন সব বিষয় জানিয়ে দিতে লাগলেন যেগুলো কাউকে বলা যায় না।এমনকি মা-কেও নয়।”
বাল্যাবস্থা থেকে কৈশোর ও তারপর যৌবনে পদার্পণের প্রাক্-মুহূর্তে মানুষের শরীরে স্বাভাবিক জৈবিক পরিবর্তন সাধিত হয় তার অনিবার্য অভিঘাত এসে পড়ে মনের মধ্যে।যৌনতা নিয়ে আগ্রহ ও কৌতূহল শুরু হয়।বিষয়টিকে অনেকটাই রহস্যময় বলে মনে হয়।কাজেই কবির ‘অদ্ভুত কষ্ট ও বিস্ময়ের দিনগুলো’-তে রবীন্দ্রনাথ তাঁকে আশ্রয় দিলেন প্রশ্রয়ও দিলেন আবার অনেক কিছুর সন্ধানও দিলেন।কবি মাত্রেই নিঃসঙ্গ।কাজেই ছোটবেলার নিঃসঙ্গ ও রুগণ কবি অবলম্বন করেন সেই রবীন্দ্রনাথকেই।
এই সময়েই তিনি পড়েন তাঁর প্রথম পর্বের ”ছবি ও গান” ,”কড়ি ও কোমল”-র বেশ কিছু কবিতা।জয় সেই সময় ‘চুম্বন’ ,’স্তন’ ,’বিবসনা’-র মত কবিতা পড়েছিলেন।বিবসনা কবিতায় পাই ‘সৌন্দর্যের নগ্ন আবরণ’।আসলে যৌনতা, নগ্নতা যে অশ্লীল কিছু নয় , তা যে জীবনের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি তা কবি অনেক তরুণ বয়সেই উপলব্ধি করেছিলেন।তাঁর সুকর্ষিত শিল্পীমন তা সুচারুভাবে ফুটিয়ে তুলেছিল কবিতার মাধ্যমে।এর মধ্যে কোথাও স্থূলতা ছিল না। যুগপৎ বিস্মিত ও মোহিত করেছিল এইসব কবিতা।’মিলন’ কবিতায় দেহের মিলনের কথা আছে।জয় লিখছেন যে –
” দেহের মিলন ? তার মানে ? রবীন্দ্রনাথও এসব জানতেন ? … সে তো অকল্পনীয় ব্যাপার।সে জিনিস রবীন্দ্রনাথও বোঝেন ? দেহের মিলন কবিতার প্রথম লাইন প্রতি অঙ্গ কাঁদে তব প্রতি অঙ্গ তরে।প্রতি অঙ্গ ? ওইটাও ?”
সংস্কৃত সাহিত্যে কাম ও প্রেম সমার্থক ও সমপ্রতীতি যুক্ত।এটা সম্বন্ধে নিশ্চিত সচেতন ছিলেন সংস্কৃত সাহিত্যের বিশেষত কালিদাসের গুণমুগ্ধ কিশোর কবি রবীন্দ্রনাথ। তাঁর গানে ও কবিতায় যৌনতার অনুষঙ্গ , চিহ্ন নানা মাত্রায় অভিব্যক্ত হয়েছে কিন্তু তা অত্যন্ত মার্জিত রুচিতে। ঊনবিংশ শতকে দাঁড়িয়ে রবীন্দ্রনাথ তাঁর সৃষ্টির মধ্যে যৌনতা সংক্রান্ত বদ্ধমূল সংস্কারকে যেভাবে ভাঙতে চেয়েছেন তা নিঃসন্দেহে বৈপ্লবিক ও প্রগতিশীল। তিনি যখন ”চিত্রাঙ্গদা” লিখেছিলেন তখন বুদ্ধিজীবী মহল থেকে তাঁকে নানাভাবে বিরূপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছিল।তবু সেই প্রেক্ষিতে দাঁড়িয়ে তিনি যে অচলায়তনকে আঘাত করার সাহস দেখিয়েছিলেন তা তো কম কথা নয় ! জয় লিখছেন যে –
” … চিত্রাঙ্গদার প্রতিক্রিয়া হয়েছিল দ্বিমুখী।প্রথমত ধরা পড়ে যাবার একটা লজ্জা , দ্বিতীয়ত তা সত্ত্বেও প্রচন্ড আকর্ষণ বোধ।যা হয় , ওই বয়সে একরকম অদ্ভুত পাপবোধ থাকে যা শারীরিক উত্তেজনাকেও পাপ মনে করতে বাধ্য করে।”
৩.
জনৈক কবি-বন্ধু জয়’কে একবার বলেছিলেন যে – ‘গুরু গুরু মেঘ গুমরি গুমরি গরজে গরজে গগনে গগনে’ লাইনটির মধ্যে অনুপ্রাস ছাড়া আর কিছু পাননি।সবাই অবগত যে এটি তৃতীয় শ্রেণির অলঙ্কার। একদিন দুপুরে বৃষ্টিপাতের পর সন্ধ্যে থেকে মেঘের গর্জন শুরু হয়েছে।তখন তাঁর মনকে অধিকার করে নিল সেই লাইনটা।নিজের অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলিয়ে নিলেন লাইনটিকে।কবির মনে হল এটা কোন প্রবল পুরুষের কান্না।কবি লিখছেন যে –
” এই লাইনটির প্রসঙ্গে মনে পড়ছে জীবনানন্দ যে আকাশকে ছড়িয়ে থাকতে দেখবেন আকাশে আকাশে তার কত আগেই তো রবীন্দ্রনাথ বলবেন গগনে গগনে।”
রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির মুখ্য বিষয়াবলম্বন হল বিশ্ব প্রকৃতি।প্রকৃতির এই বিপুল সৌন্দর্য , বৈচিত্র্য , রূপ-রস-গন্ধ ও স্পর্শকে রবীন্দ্রনাথ এক এমন সূক্ষ্মতাভাবে তাঁর সৃষ্টিতে প্রতিকায়িত হয়েছে এবং তা প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে যে তা অদ্বিতীয় , অতুলনীয়। যদিও রবীন্দ্রনাথ ও জীবনানন্দের এই পঙতি দু’টির মধ্যে কোন মিল নেই , ব্যঞ্জানায় বিপুল ফারাক।
জয় যথার্থই লিখছেন যে –
” রবীন্দ্রনাথের জীবনীশক্তি এত বেশি ছিল , আর সব ব্যাপারটা এত বড় ক’রে দেখতেন উনি , সময় এবং মানুষকে , সেইসঙ্গে নিজেকেও এত দূর পর্যন্ত এত বিরাট একটা জায়গা নিয়ে দেখতে পেতেন , যেখানে কল্পনাশক্তি যেন জীবনীশক্তির সঙ্গে মিলে যেত এবং কবিতাও দীর্ঘতর হয়ে ছড়িয়ে পড়তে চাইত।এর প্রমাণ একেবারে প্রথম জীবনের মহাস্বপ্ন , সৃষ্টি স্থিতি প্রলয় , সমুদ্রের প্রতি থেকে শুরু করে শেষ জীবনের শিশুতীর্থ পর্যন্ত বারবার পাওয়া গেছে।”
বিরাট জীবনীশক্তি ছাড়া কোন কোন মানুষের পক্ষে কি এমন গান লেখা সম্ভব হত যে – ”আকাশ ভরা সূর্য তারা বিশ্ব ভরা প্রাণ / তাহারই মাঝখানে আমি পেয়েছি মোর স্থান / বিস্ময়ে তাই জাগে।” কিংবা এই রকম কবিতা – ”হৃদয় আমার ক্রন্দন করে / মানব-হৃদয়ে মিশিতে — / নিখিলের সাথে মহা রাজপথে / চলিতে দিবস-নিশীথে।” যিনি আমৃত্যু এত প্রেমের গান লিখেছেন তিনিই পরিণত জীবনে সর্বানুভূতি বা বিশ্বানুভূতির কথা লিখেছেন। ব্যক্তি জীবন থেকে সমষ্টিতে , ক্ষুদ্র আমি থেকে বৃহৎ আমিতে , জীবনদেবতা থেকে বিশ্বদেবতার দিকে গেছেন।
রবীন্দ্রনাথ তাঁর ‘সাহিত্যের তাৎপর্য’ প্রবন্ধে লিখছেন যে – বিস্ময় , প্রেম ও কল্পনাই হল কবি জীবনের প্রধান তিনটি উপাদান।স্রষ্টা তাঁর দুরবগাহ বিস্ময় , প্রেম ও কল্পনাশক্তি বলেই দূরকে কাছের করে নিতে পারেন , অজানার উদ্দেশে পাড়ি দিতে পারেন , নিজেকে একাত্ম করতে পারেন মানুষ প্রকৃতি ও মহাবিশ্বের সঙ্গে।কল্পনাশক্তির সঙ্গে জীবনীশক্তি যেখানে মিলে যায়।সবার নয় রবীন্দ্রনাথের মত মহাকবিদের পক্ষেই তা সম্ভব।
৪.
জয় এখানে এনেছেন কালজয়ী “ডাকঘর” নাটকের প্রসঙ্গ।সেই নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র অমলের সঙ্গে নিজেকে একাত্ম করতে পেরেছিলেন জয়।ছোটবেলায় তিনি গুরুতর অসুস্থ ছিলেন।তার বাইরে বের হতে , বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে ইচ্ছে করত ভীষণ। কিন্তু তাঁর মা বলতেন কালো কাকা , যিনি বিখ্যাত ডাক্তার , অনুমতি দিলে তবেই বের হতে পারবেন। একদিন ডাক্তার স্কুলে যাবার অনুমতি দিলেন কিন্তু খেলতে যাবার নয়।কবি লিখছেন যে –
” অমল পন্ডিত হতে চায়নি , স্কুল থাক না থাক , যেসব জায়গা সে দেখতে পেতো , আর যেসব জায়গার কথা ঠাকুরদা বলতো তাকে , যেমন পাঁচমুড়ো পাহাড় , ক্রৌঞ্চদ্বীপ , ডুমুর গাছের তলায় ঝরনা — এসব কোথাও সে যেতে পারবে না আমি স্বপ্নেও ভাবিনি।ভাবিনি রাজকবিরাজ তাকে সুস্থ করতে পারবে না।”
অমল সুস্থ হতে পারেনি। শুধু সুধা তাকে ভোলেনি।সে তার জন্য ফুল এনেছিল। এবং কবিরাজের হাতে দিয়ে বলেছিল যে – বলে দিও সুধা তাকে ভোলেনি।কবিরাজ যখন অমলের ঘরের সব জানলা খুলে দিয়েছিল তখন সে দেখতে পেয়েছিল নক্ষত্রখচিত বিরাট আকাশটাকে।কিশোর জয় তখন যেন পৃথিবী ও মৃত্যুর মুহূর্তরাত্রি পেরিয়ে চিরসময়ের দিকে পৌঁছে যান। জয় দুপুরবেলা রেডিওতে ডাকঘর শুনে , সারা সন্ধ্যা পড়তে বসেও ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে ছিলেন। তিনি কথা বলার অবস্থায় ছিলেন না।কোন্ এক ‘দিশাহারা আনন্দ’ থেকে উৎসারিত হয়ে উঠছিল সেই কান্না ; কোন দুঃখ বা কষ্ট থেকে নয়। তাঁর মনে হয়েছিল যে – ‘অমল ছিল আমার মতো সহস্র রুগণ বালকের বন্ধু’। রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিতে বারবার মৃত্যুজনিত বিচ্ছেদ , প্রিয়জনকে হারানোর যন্ত্রণা, সুগভীর বেদনা বা বিয়োগ ব্যথার প্রসঙ্গ এসেছে।জীবন মানে শুধু ভোগ,সুখ,উল্লাস নয় বরং জীবন ও মৃত্যুর প্রান্তিক শাসনে সীমায়িত এই জীবনে শোক,কষ্ট,বেদনার পরিমাণই তো বেশি। কিন্তু এই দুঃখ , যন্ত্রণা , আঘাতই তাঁর কবিমনকে আরও শীলিত ও পরিণত করেছে। তাঁর সৃষ্টির অনিঃশেষ প্রেরণা হয়ে উঠেছে। তাই শোক এখানে ব্যক্তিগত হয়ে থাকে না হয়ে ওঠে সর্বজনীন। তিনি রক্ত মাংসের মানুষ ছিলেন বলেই তাঁর সৃষ্টির সঙ্গে নিজেকে একাত্ম করতে পারি।তাই তাঁর সৃষ্টি কোন মুষড়ে পড়া , শোকাহত মানুষের সামনে হয়ে ওঠে সঞ্জীবনীর মত , অনির্বাণ আলোর ঝলকের মত।সেখান থেকে উত্তরণের পথ আমরা খুঁজে পাই।
“রক্তকরবী” নাটকের প্রসঙ্গও এখানে কবি এনেছেন। ছোটবেলায় নাটক দেখার কিছু স্মৃতি তাঁর মনে জাগরুক। তাঁর ভয় লেগে ছিল সেই যক্ষপুরী দেখে।’অন্ধকার এক প্রাসাদ আর তার মধ্যে নিষ্ঠুর রাজা’ ছাড়া আর সবই বিস্মৃত হয়ে গেছেন তিনি।এই নাটক পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাটকগুলির একটি।এই নাটকে প্রেম ও প্রতিবাদ মিলে গেছে এক তরঙ্গ দৈর্ঘ্যে।পরবর্তীকালে এই নাটকটিকে তিনি ‘আবিষ্কার’ করেন।যখনই পড়েন তখনই নতুন কিছু খুঁজে পান।জয় লিখছেন যে – ‘রবীন্দ্রনাথ যদি শুধু নাটক কটাই রেখে যেতেন তাতেও সাংঘাতিক হতো।’ তাঁর মুখ্য নাটকগুলি ক্ষমতাতন্ত্র , সংকীর্ণ ধর্মীয় মৌলবাদ আর আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আয়ুধ হয়ে ওঠে। তাঁর আমাদের মন তৈরি করার , এক সমুন্নত জীবনবোধে উদ্বোধিত হবার নাটক।
৫.
‘পাগল’-কে রবীন্দ্রনাথ বারবার আহ্বান করেন তাঁর সৃষ্টিতে – ” গানে কবিতায় রবীন্দ্রনাথ বারবার পাগলকে ডাকেন।নাটকে নিয়ে আসেন পাগলকে।সে-পাগল গান গায়।সে-পাগল ভালবাসে।সে পাগল শিল্পী।বাইরে থেকে দেখে যারা , যারা নিজেদের স্বার্থ আর পাওনা নিয়ে ব্যস্ত , তারা বিদ্রূপ করে।কী হয়েছে তাতে।সেই পাগলের রবীন্দ্রনাথ আছেন। রবীন্দ্রনাথ তাকে বলেছেন — তুই যে পাগল সেটাই তুই জানিয়ে দিবি।ব্যস্।”
এই গদ্যাংশের নামও ‘পাগল রে তুই’।’পরীর পরিচয়’ গল্পের সেই নবীন পাগলা যিনি বাঁশি হাতে বনে বনে ঘুরে বেড়ান। রাজপুত্রকে পরীস্থানের গল্প শোনান।’রক্তকরবী’ নাটকের বিখ্যাত চরিত্র বিশু পাগল : চিরনবীন,সত্যসন্ধ।যে ভালোবেসেছিল নন্দিনীকে।যে প্রেমের গান গেয়ে বেড়ায় – তোমায় গান শোনাবো / তাই তো আমায় জাগিয়ে রাখো …।এই বিশু পাগলের অল্টার ইগো যেন ‘অচলায়তন’ নাটকের গুরু , ‘মুক্তধারা’-র ধনঞ্জয় বৈরাগী , ‘ফাল্গুনী’-র অন্ধ বাউল। যাঁরা সবাই ভাঙতে চায় প্রথাবদ্ধ জড়তাকে।কবিও চান চারিপাশের অসুন্দর আর বিশৃঙ্খলার মাঝে সুন্দরের উপাসনা করতে।জয় লিখছেন যে – ‘আজো যে কেউ কেউ পাগল থাকতে সাহস পায় , সে রবীন্দ্রনাথের জন্য।’
এই গদ্যের শেষাংশ আশ্চর্য কাব্যঘন লিখেছেন যে –
“সেই দেশ থেকে যেন দেখতে পাচ্ছি সমুদ্রের গর্ভ থেকে — সূর্যের দিকে জেগে উঠেছে — সমস্ত জীবের অগ্রগামী গাছ। মৃত্যুর পর মৃত্যু পেরিয়ে যে বলতে পারে , আমি থাকবো।আমি বাঁচবো। রৌদ্রে বাদলে দিনে রাত্রে।
আমরা জানি , রবীন্দ্রনাথ চিরকালীন সেই গাছেরই মতো। যতদিন সভ্যতা থাকবে — থাকবেন রবীন্দ্রনাথ।”
পূর্বসূরী রবীন্দ্রনাথ’কে উত্তরসূরী রবীন্দ্রনাথ একটি বিরাট বৃক্ষের সঙ্গে উপমিত করেছেন।একটি বিরাট ও ব্যাপ্ত ঐতিহ্য যেন প্রমূর্ত হয়েছে তাঁর মধ্যে।যে বৃক্ষের নীচে বসলে নির্ভেজাল প্রাণবায়ু,শান্তি আর স্থিতি পাওয়া যায়।শোকে, দুঃখে, সঙ্কটে ধ্বস্ত অবসন্ন মনকে যে রবীন্দ্রনাথ স্নাত করেন, স্নিগ্ধতার পরশ দেন , শাশ্বত সুন্দরের সন্ধান দেন। রবীন্দ্রনাথ মানে আনন্দগান। তাঁর আধ্যাত্মিকতার মধ্যে জীবনবিমুখতা নেই ; গভীরভাবে সংসক্ত মধুময় পৃথিবীর ধূলির সঙ্গে। প্রাচীন, আধুনিক বা উত্তরাধুনিক ইত্যাদি কোন প্রতর্কেই তাঁকে বাঁধা যায় না। তাঁর সৃষ্টির মধ্যে কোথাও কোন মর্বিডিটি , হতাশা , ক্লিষ্টতা নেই কারণ তাঁর মানবতা প্রোথিত আছে আধ্যাত্মিক জীবনবোধের মধ্যে।।
গ্রন্থপঞ্জী (আকর গ্রন্থ) :–
১. হৃদয়ে প্রেমের শীর্ষ , জয় গোস্বামী , আনন্দ পাবলিশার্স , সংস্করণ সপ্তম , পৃষ্ঠা – ১৮-৩৩ ।
(সহায়ক গ্রন্থ )
২. রবীন্দ্রচিত্তে জনচেতনা , জগদীশ ভট্টাচার্য , ভারবি প্রকাশনী, সংস্করণ -প্রথম , জানুয়ারি ১৯৯৮, পৃষ্ঠা -৩৪৪ ।
৩. রবীন্দ্রনাথের তত্ত্বানাটক , কনক বন্দ্যোপাধ্যায় , এবং মুশায়েরা , সংস্করণ জানুয়ারি ২০১৩ , পৃষ্ঠা – ৯৪ , ১৫৪-১৫৬ ।
৪. বাছাই গল্প (সম্পাদনা – উজ্জ্বলকুমার মজুমদার) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর , মন্ডল বুক হাউস , সংস্করণ – এপ্রিল ২০০৪ , পৃষ্ঠা – ৫ ।

কীভাবে লেখা পাঠাবেন?
নীচে উল্লিখিত হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার কিংবা ইমেল আইডিতে লেখা পাঠাতে পারবেন।
হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার~ 9636459953
ইমেল আইডি~ bengalliveportzine@gmail.com
লেখার সঙ্গে নিজের নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর এবং একটি ছবি পাঠানো আবশ্যক।
ভ্রমণ কাহিনীর সঙ্গে নিজের তোলা দুটো ছবি পাঠাতে হবে।

Related News

Leave a Reply

Back to top button