পোর্টজিন

কবি আলোক সরকার :: এক আত্মমগ্ন স্বরের সন্ধানে – সুমন ব্যানার্জি

Bengal Live পোর্টজিনঃ পোর্টজিন কি? পোর্টজিন একটি অনলাইন ম্যাগাজিন। প্রতি সপ্তাহের রবিবার এটি বেঙ্গল লাইভের (bengallive.in) এর পোর্টজিন বিভাগ থেকে প্রকাশিত হয়।

sunday literature bengal live portzine

১. আলোক সরকার’র কবিতার গভীরে অবগাহন করার আগে তাঁর কিছু কবিতা-কেন্দ্রিক বক্তব্যকে আমরা তুলে ধরব —
ক। “একদা কবিতা একটা বিশেষ সম্পূর্ণ কবিতা হতে চায় , কবির কাজ তাকে সেই সম্পূর্ণতা দেওয়া , তারই জন্য নানা আয়োজন , মার্জনা পরিমার্জনা। … কবিতা রচনায় কবির ভূমিকা একজন নির্মাতার ভূমিকা। বিশেষ আবেগ যখন কবিতার সম্ভাবনার কথা বলছে তখন আবেগকে বাদ দিয়ে তার ভিতরের নির্জন আঁধার শুদ্ধ স্পন্দনটুকু বীজটুকু তাকে চিনে নিতে হয় …।”

শুধু আবেগই কবিতা নয় , আবেগ কবিতাকে উদ্রিক্ত করে। অমার্জিত আবেগ তখনই শিল্পঘন হয়ে ওঠে ও কবিতায় রূপায়িত হয় যখন তার মধ্যেকার ‘নির্জন আঁধার শুদ্ধ স্পন্দনটুকু’ যা বীজের মত থাকে তা চিনতে পারেন একজন কবি। এখানেই তিনি সকলের থেকে আলাদা হয়ে যান।

খ। “… কবিতা রচনার পেছনে আমার সবসময়ই একটা অস্বচ্ছ দর্শন কাজ করত।…আমরা যা হয়েছি , সেটা যেমন সত্য , ঠিক ততটাই সত্য আমরা যা হইনি অর্থাৎ হতে চাই। একটার মধ্যে বাস্তবতা কাজ করে , একটার মধ্যে কল্পনা। কল্পনা ও বাস্তব এর মাঝামাঝি একটা স্তর আছে। সেই জায়গাটাকেই অন্বেষণ করার আমি চেষ্টা করি , সেই জায়গাটা একদম বিশুদ্ধ …।”

কবিতা তো পুরোপুরি কল্পনাও নয় কারণ কোন কল্পনাই বাস্তবকে বাদ দিয়ে নয়। অন্যদিকে পুরোপুরি বাস্তবও নয় কারণ যে কোন শিল্পই এবং কবিতা তো বিশেষভাবে সৃষ্টি করে এক বিকল্প বাস্তবের পরিসর। দুরবগাহ বিস্ময় , প্রেম ও কল্পনার সংমিশ্রণেই কবি তা করেন। কল্পনা ও বাস্তবের মাঝামাঝি এই ধূসর এলাকাটিই আলোক সরকারের কাছে একদম ‘বিশুদ্ধ’। তিনি এই বিশুদ্ধতার সন্ধানই বারবার করেছেন নিজের সৃষ্টিতে। তাঁর কবিতা তাই প্রগলভতা , উচ্ছ্বাস , উদ্দীপনা , ভাবুলতা বাদ দিয়ে তা হয়ে উঠেছে একদম মগ্ন ও অনুসন্ধানী।

গ। “বিশুদ্ধতা আমার অন্বিষ্ট কিন্তু সেই বিশুদ্ধতার সঙ্গে মালার্মে-কল্পিত বিশুদ্ধতার মৌলিক তফাৎ আছে , অর্থাৎ আমার মনে হয় আছে।কবিতার বিশুদ্ধতার সঙ্গে-সঙ্গে আমি সংস্কার-ঊর্ধ্ব একক প্রথম অনির্ভর মানুষকেও তো খুঁজে নিতে চেয়েছি , পরিশুদ্ধ এবং অপরিশুদ্ধ মানুষের দ্বান্দ্বিক ব্যবধান এবং সেই ব্যবধান অপনয়নের অন্ধকার আকুতি আমার কবিতায় ছায়া ফেলেছে ; পরিশুদ্ধ মানুষকে আমি খুঁজে নিতে চেয়েছি , চেয়েছি একক প্রথম অনির্ভর বিশুদ্ধ পরিবেশ , বিশুদ্ধ বোধ বিবেক এবং উপলব্ধি।”

এই ‘অনির্ভর বিশুদ্ধ পরিবেশ’ ও ‘বিশুদ্ধ বোধ বিবেক’ তাঁর কবিতাকে করেছে স্বাতন্ত্র্য- মন্ডিত।পঞ্চাশের দশকের বোহেমিয়ানপোনা , স্বেচ্ছাচার , যথেচ্ছ যৌনাচারের যে ছবি পাওয়া যায় সেইসব থেকে তাঁর কবিতার জগত অনেকটাই দূরে। নাগরিক জীবনের জটিল যন্ত্রণা , অবক্ষয় থেকে দূরে গিয়ে তিনি খুঁজতে চেয়েছেন একজন ‘পরিশুদ্ধ মানুষ’-কে।

ঘ। “… কোনো কবির কাব্যসংকল্প বিষয়ে চূড়ান্ত কিছু ভেবে নেওয়াটা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভ্রান্তিকে ডেকে আনে …। সবকিছু সত্য , জীবনানন্দ যেমন বলেছিলেন , অংশত সত্য , কোনো-কোনো প্রসঙ্গে সত্য।”

এই পৃথিবীতে কোন কিছুই চিরসত্য নয়। সত্য মাত্রেই তো তা আপেক্ষিক। কিছু কিছু সত্য থাকে যা একমাত্র কবির জীবনেই সত্য। হয়ে ওঠে জীবনের ঐকান্তিক নির্ভরতার কোন স্থল। যা একমাত্র মহৎ স্রষ্টাদের ক্ষেত্রেই থাকে।
এই সমস্ত ভাবনাই কীভাবে অনাবৃত হয়েছে তাঁর কবিতায় এবং তাঁর কাব্যভাষাকে স্বাতন্ত্র্য-মন্ডিত করেছে তা নিয়েই সংক্ষেপে আলোকপাত করাই প্রবন্ধের অন্বিষ্ট।

২. ” রাতে পাখি ওড়ে না রাত ঘোর নিঝুম / রাত চুপ সুদূর , /আলো নেই অন্ধ কতো দিকভ্রান্ত / পথ-চলা চেতন। / কারা এতো হাঁটছো ? কবে থেকে হাঁটছো ? / দেখি দূর গহন / মেঘ ছাওয়া আকাশ তারাভরা আকাশ / তার মাঝে নূপুর , / কার এই নূপুর !” (ছায়ারঙ্গ)

রাতের নিঃসীম অন্ধকার , কখন তারাভরা কখন মেঘাবৃত ঘন কালো আকাশ , নিঃস্তব্ধতা সূক্ষ্ম সংবেদী কবিমনে এক রকমের উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। ঠিক উত্তেজনা নয় আবার নির্লিপ্তিও নয় ; কবির অতলস্পর্শী কল্পনা শক্তির কাছে রাত্রির নিসর্গ ভিন্নভাবে ধরা দেয়। তিনি শুনতে পান কারুর পদশব্দ , অনুভব করেন মেঘাচ্ছন্ন আকাশে কারুর নূপুর ধ্বনি।কবির দৃষ্টিতে ছবির মত স্তব্ধ পৃথিবীতে কেমন যেন কেঁপে ওঠে। এই কবিতার আমাদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করে ছন্দ প্রয়োগের অসামান্যতা।

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর প্রসঙ্গে ‘আলোক সরকারের কবিতা’ শীর্ষক একটি প্রবন্ধে লিখছেন যে —

“…আলোক সরকারের কবিতার মধ্যে এক শান্ত নীরবতা সবসময় চোখে পড়ে। যেন বহু লোকের জনতার মধ্যে একটি পৃথক লোক হেঁটে চলেছে।নিজের বলার কথা কখনো তিনি উচ্চকন্ঠে ঘোষণা করে বলেন নি।”

উক্ত কবিতাটি সেই কথাই মনে করিয়ে দেয়।

” মাগো , আমার খেলার পুতুল অনেকদিন হারিয়ে গেছে / সমস্ত ঘর এখানে একলার। / উঠোন ভ’রে হাওয়া আসে ভালোবাসবে ব’লে / ওদের মুখ। কিন্তু আমি কী করে আর পাতবো সংসার ! / এলোমেলো রাঙা-শাড়ি ছড়িয়ে আছে ঘরের মলিন কোণে / কাকে ঘরে আনব আমার আকাশ-ভরা দিন ? / সকল আয়োজন-ই আমি ভাসিয়ে দেবো ধুলোর ম্লান কোলে / একলা তারা করুণ অর্থহীন।”

নিখাদ আবেদনমাখা মর্মস্পর্শী কবিতাটি একজন কিশোরীর বয়ানে তাঁর মৃতা মা’র উদ্দেশে রচিত।উদ্ধৃত প্রথম পঙক্তিতে ‘খেলার পুতুল’ এবং পঞ্চম পঙক্তিতে ‘এলোমেলো রাঙা শাড়ি ছড়িয়ে’ — এই কথাগুলিই ইঙ্গিত বহন করে যে এটি কোন নারীর বয়ানেই লেখা।যৌবনে প্রেমিকের সঙ্গে ঘর বাঁধার বাসনাটুকু অনেক সময় সাধ হয়েই থেকে যায় অন্তরে — ‘কাকে ঘরে আনব আমার আকাশ-ভরা দিন ?’ এই কবিতার স্থায়ীভাব হল শোক , করুণ রসের কবিতা। মানুষের জীবনে বিশেষত শৈশবের সবচেয়ে বড় অবলম্বন মা’র অকাল প্রয়াণ যে কতখানি অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি করে , বেদনার ও অপরিসীম যন্ত্রণার তা তো শুধু সেই মানুষটাই বোঝে।মাও প্রয়াত হয়েছেন আর ছোটবেলার পুতুল খেলার দিনগুলিও চলে গেলে কালের নিয়মে।বেদনাক্লিষ্ট একলা মানুষের কথাই এই কবিতায় প্রতিকায়িত হয়েছে।

৩. আলোক সরকার কবিতা নিচু স্বরে বাঁধা। স্বগতোক্তি আছে কিন্তু বিকট উচ্ছ্বাস , স্থূলতা , প্রগাঢ় যৌনতা , বাঁধভাঙা বোহেমিয়ানভাব তাঁর লেখায় নেই বললেই চলে। তাঁর কবিতা একলা মানুষের সুগভীর আত্মমগ্ন স্বরকে তুলে ধরে।নিজেকে অনেক বেশি শান্ত , সংহত ও তন্ময় করে রাখেন তিনি। রোম্যান্টিক মেদুরতা তাঁকে খুব বেশি আচ্ছন্ন করে না।তাই লিখতে পারেন ‘আমি চিরদিন। আকাশের নিচে এক অসম্পূর্ণ।’ আসলে এই অসম্পূর্ণতাই কি আধুনিকতার এক অভিজ্ঞান নয় ? তিনি জানেন যে — ‘স্বাতন্ত্র্য অর্থই এক নিঃসঙ্গতা , কিন্তু কোন শীলতা আগুন / চতুর্দিকে জ্বলে।’

“আকাশের নিচে এক অক্ষমতা , ঘরের ভিতরে / নিজেকে বিশিষ্ট ক’রে অনুভব করি। আমি চিরদিন / আকাশের নিচে এক অসম্পূর্ণ। বিস্তীর্ণ প্রান্তরে / অবজ্ঞাত শীতল প্রয়াস শুধু।” (রক্তাক্ত সংগ্রাম)

‘আমার কবিতা’ শীর্ষক রচনায় নিজের সৃষ্টিশীল মনের উপলব্ধির কথা বলতে গিয়ে তিনি লিখছেন যে —

“আমার জীবনে যা কিছু আছে তা কতকগুলি রং — বহুবর্ণ বিচিত্র অভিনব দাম্ভিক নির্জন স্বয়ংসম্পূর্ণ রং। … বয়স যত বাড়ছে রং ততো বেশি হচ্ছে , বর্ণালী আরও বেশি ঊর্মিল , — একটা বর্ণ খুব স্তব্ধ আস্তে আস্তে গড়ে উঠেছে , একটা বর্ণ খুব নিথর ছড়িয়ে পড়েছে আর একটা বর্ণে। এটা এক ধরনের খেলা , আবহমানের খেলা , প্রবহমান নিস্তরঙ্গ বিদ্যুৎনিকেশী খেলা … আমার কবিতা আমার সঞ্চিত রংগুলির কবিতা।তাদের হয়ে-ওঠা , তাদের ভেঙে ছড়িয়ে পড়ার কবিতা। কেবলই কি রং ? ঠিক তা নয় , অনেকগুলি রং , তার পাশে ঘটনারই ভিতর থেকে জেগে ওঠা অনেকগুলি ধ্বনি , তার পাশে সপ্রতিষ্ঠিত স্পর্শময় ইঙ্গিতসঘন অনেকগুলি ঘ্রাণ।”

নিজের এই জীবন সত্য তাঁর যে সব কবিতায় ধরা দিয়েছে তার কয়েকটি হল —

“ভরে সারা আকাশ তারা ভরা আকাশ / অনুরাগে আকুল। / লঘু ক্ষীণ বসনা নীল ওড়ে ওড়না / উদাসীন বাউল —” (‘ছায়ারঙ্গ’)

“অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থেকে আলোর সকাল দেখি / প্লাবিত সেই স্রোতের নীল দূর পথের পেয়েছে মিল / লুকিয়ে যারা ভালোবাসে তাদের জেনেছে কি ?” (‘তিমির প্রার্থনা’)

“লাল আলো মাঠের ওপারে দূরে স্পষ্ট আছে জ্বালা / অথবা একান্ত হাওয়া চৈত্রের দুপুর।” (‘একসুর’)

“তোমায় দিতে দুঃখময় ছবি পারি তোমার বুকে আঁকতে / কিন্তু তার উপযুক্ত পটভূমি / মাটিও নয় / মাটির আরও গভীর হলুদ বিবশ রুগ্ন অন্ধকার”। (‘অন্য আকাশ’)

৪.
একলা নিঃসঙ্গ মানুষের সঙ্গে নদীর এক অন্তরঙ্গ সম্পর্ক আছে।নদী হল প্রবহমানতার প্রতীক।দুঃখ , যন্ত্রণার বিরাট বোঝা বহন করতে করতে যখন তা দুঃসহ হয়ে ওঠে তখন নদীর কাছে গিয়ে দাঁড়ালে মনে হয় সে কখন অনেক বোঝা হাল্কা করে দিয়েছে।কবি লিখছেন যে —

“পৃথিবীতে হাজার নামের নদী আছে।আমি মনে-মনে / একটি নদীর পাশে দাঁড়াই।কখনো / অন্য এক নদী।” (‘একটি নিস্তব্ধ ফল’)

আমরা আগেই বলেছি যে — প্রকৃতি ও নারী কেন্দ্রিক রোম্যান্টিক স্বপ্নিল মেদুরতা বা মায়ামগ্নতা বেশিরভাগ কবিদের মধ্যেই দেখা যায় তা থেকে আলোক সরকার অনেকটাই দূরে। তাঁর আবেগ অনেক প্রসাধিত , সংহত ও গভীর। তিনি এই প্রসঙ্গে লিখছেন যে —

“…প্রকৃতি একটা অসহায় , প্রাণময় অবস্থা , আমার কাছে তাই মনে হয়। প্রকৃতি একটা যান্ত্রিক ব্যাপার।তার ফুল ফোটানো ব্যাপারটাও যান্ত্রিক। সে কিছু করে না। একটা অসহায় অবস্থা যেন জেগে আছে , এর অর্থহীনতা , তাৎপর্যহীনতা …।…প্রকৃতি নিজের purpose ছাড়া কিছু বোঝে না। প্রকৃতি সে অর্থে আমার কাছে খুব আনন্দময় উপস্থিতি নয়।”

এই দর্শনই প্রতিফলিত হচ্ছে তাঁর কবিতাতেও —

“যা কিছু অসত্য তাই দ্যুতিময় , ভোরবেলা / বাগানের ফুলগুলি ম্লানতার।রাত্রিবেলা / শিশির ঝরার শব্দ। / আমি অন্যমন হাঁটি নিরুদ্দেশ।আমি আজকাল / পাখির ওড়ার ছন্দ ভাবি না , দেখি না / দশবারোরকমের মেঘ।” (‘স্ফুরিত অলীক’)

ঠিক উদ্দীপনা নয় এক রকমের শূন্যতা , বিষণ্ণতায় আচ্ছন্ন হয়ে ওঠে তাঁর অনেক কবিতা —

“পাতা ঝরে-যাওয়া কোনো শব্দ নয় , আমি অন্যমন / হেমন্তের গাছগুলি পার হই।আমি নির্নিমেষ / শুনি জলধ্বনি সেই ম্লান নদী তামসী নির্জন / প্রতি মুহূর্তের বিশীর্ণ কান্নায় স্পষ্ট করে।” / আমি কোনোদিন / হেমন্তের নিভৃতে বনের পথ একাগ্র ভাবি নি। / যখনই আকাশ ভরে মেঘ করে ছায়ালীন অবগাঢ় চিনি / সম্পূর্ণ আকাশ স্থির ইতিহাস আচ্ছন্ন করুণ , / মেঘহীনতায় গেছে কতদিন , কতদিন সম্পূর্ণ আকাশ / দ্যুতিহীন বিলুপ্ত অস্তিত্ব শুধু। …” (‘রক্তিম আঁধার’)

৫.
ঈশ্বর চেতনা অলোক সরকারের কবিতার একটি বিশেষ দিক।এই বিশ্বের সমস্ত সৃষ্টির মধ্যে তিনি মূর্ত হয়ে উঠছেন। ‘ডাকঘর’ নাটকের সুদূরের পিয়াসী অমলের প্রসঙ্গ তিনি এনেছেন ; যে অমল আসলে সাহজিক। সে বাধাবন্ধহীন অনির্দিষ্ট ভ্রমণ করতে চায়। ঈশ্বরও তো তেমনি শিশুর মত সাহজিক।সে সর্বব্যাপী। যে বিশুদ্ধতার সন্ধানে তিনি ব্রতী সেই বিশুদ্ধতা তিনি পান ঈশ্বরীয় বোধে। তিনি লিখছেন যে — ঈশ্বর তো একজন যে সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ। কোনো পাপ , পুণ্য , চাওয়া – পাওয়া কিছুই নেই। এই চেতনায় যদি পৌঁছতে পারি , পেরেছি এমন নয় , যদি পারতাম তাহলে সেই তো ঈশ্বর।

“সহজ সাজেই বাগানে দাঁড়াও , আমিও সহজ / পোশাকে বাগানে এসেছি , / যে কোনো পথেই সান্ধ্যভ্রমণ।রাখবে না খোঁজ / কোনদিকে দিঘি , কোথায় নদীর সুদূর , / কেবল আত্মবেশী — / স্বতঃস্ফূর্ত যাওয়া আরো নীল বিশুদ্ধ কল্পনা ? / শুধু সঙ্গোপনে প্রস্তুতি। শুধু অলক্ষ্য বিবেচনা / নির্বচনীয় একক, / ঈশ্বর ক্রমপরিণত ! লাল আমগাছটার তলায় / অমল শিশুর কন্ঠ , অমল আমাদের সাহজিক / অনির্দিষ্ট ভ্রমণ। / গাঢ় গাছটার পাতার আড়ালে মূক নির্মাণ অনিকেত তন্দ্রায়।” (‘ঈশ্বর’)

কবির অন্তরঙ্গ আত্মজীবনী কোন সন,তারিখের সন্নিবেশিত ইতিহাস নয় তা অনুভববেদ্য ও স্পন্দমান হয়ে ওঠে তাঁর সৃষ্টিতেই। মনস্ক পাঠক ঠিক খুঁজে নেন স্রষ্টাকে —

“অনেকগুলি রঙ , অনেকগুলি ধ্বনি , অনেক ঘ্রাণ — এই সব নিয়েই আমি আত্মজীবনী রচনা করতে চাই , কবিতায় রচিত আত্মজীবনী।ঘটনা নয় , আমি ঘটনার কথা তেমন করে কোনদিনই ভাবিনি।যে কোন ঘটনাই তো এক ধরনের রঙ অথবা অন্য ধরনের ধ্বনি , বিশিষ্ট স্পর্শবহ ঘ্রাণ।”

 

 

 

কীভাবে লেখা পাঠাবেন?
নীচে উল্লিখিত হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার কিংবা ইমেল আইডিতে লেখা পাঠাতে পারবেন।
হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার~ 9635459953
ইমেল আইডি~ bengalliveportzine@gmail.com
লেখার সঙ্গে নিজের নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর এবং একটি ছবি পাঠানো আবশ্যক।
ভ্রমণ কাহিনীর সঙ্গে নিজের তোলা দুটো ছবি পাঠাতে হবে।

Related News

Leave a Reply

Back to top button