বেঙ্গল লাইভ Special

Internet : তথ্যের জালে হারিয়ে যাচ্ছে শৈশব, কীভাবে বাঁচাবেন ?

Bengal Live পোর্টজিনঃ  আপনি কি আপনার সন্তান অন্যদের মত নয় বলে চিন্তিত?
 সন্তানকে কি আপনি নিজের মত করে গড়ে তুলতে চান?
 ওজন কি শুধু শরীরেরই হয়, মনের কিংবা তথ্যের ওজন থেকে আপনার শিশুকে রক্ষা করবেন কীভাবে?
লিখছেন অমিতাভ দাষ। পড়তে থাকুন। আজ দ্বিতীয় কিস্তি।

 দ্বিতীয় ভাগ:

 

দৃশ্য একঃ 

সুমন দের বাড়িতে তিনটে টিভি একটি তার দাদুর ঘরে, একটি তাদের বসার ঘরে আর আরেকটি তার কাকার ঘরে রাখা। একটি ইংরেজি খবরের কাগজ ও একটি বাংলা সংবাদপত্র দৈনিক তাদের বাড়িতে আসে। সকালবেলায় আর বিকেল থেকে সন্ধে পেরিয়ে রাত্রি—এই সময়ে দশ বছরের সুমন আর তার বোন আট বছরের পিউ খুব ভয়ে ভয়ে থাকে। সকালে কাকু প্রতিদিন ডেকে নতুন নতুন ইংরেজি শব্দের মানে জিজ্ঞেস করবেনই, আর তারপর অনেকক্ষণ ধরে জ্ঞান দেবেন। দাদু আবার বাংলার শিক্ষক ছিলেন। তাই তার ব্যাকরণের জ্ঞানের কাছে তারা যে হাবুডুবু খাবে, সেটা তো স্বাভাবিকই। কিন্তু সন্ধেবেলা এক-এক ঘরে এক-এক চ্যানেল। লক ডাউন বলে মাস্টারমশাই আর আন্টিরা দুপুরে পড়িয়ে যান। তাই সন্ধেয় এক-এক ঘরে এক-এক ধরণের পরিবেশ দেখতে দেখতে দুই ভাইবোনের মাথা খারাপ হবার জোগাড়।

বাঁচার জন্য মায়ের মোবাইল ফোনই ভরসা। কিন্তু সেখানেও তো দুই ভাইবোনের পছন্দ আলাদা। গোটা বাড়ি জুড়ে কত রকমের আওয়াজ আর তথ্যের ছড়াছড়ি। পিউ সুমনকে জিজ্ঞেস করছে,”দাদা, ডিভোর্স মানে কী ?” সুমন কোনোরকমে একটা উত্তর দিতে পেরেছে। কিন্তু অবৈধ সম্পর্ক, ডোপিং, বউকে কেন বাইরের কথা বলা যায় না ? বাবা কি মাকে বাইরের কোনো কথা বলে না? মাথা খাওয়া মানে কি? এসবের উত্তর সুমনেরও অজানা। সুমন ভেবেছে বোনের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য তাকে আরো ভালো করে পড়াশুনো করতে হবে। কিন্তু সুমনেরও তো অনেক প্রশ্ন আছে। সেগুলোর উত্তর কে দেবে?

সন্তানের ওজন আর স্থুলতা চিন্তার কারণ ? সমাধানের পথ জেনে নিন

 দৃশ্য দুইঃ 

ক্লাস সিক্সের আনিশা তার বাবা-মা’র সাথে তিনতলার ফ্ল্যাটে থাকে।স্বাভাবিকভাবেই খুব একটা বন্ধুবান্ধব নেই। তার ওপর লকডাউন এর কোপ এসে পড়েছে তার পুতুল খেলার সময়টুকুর ওপরও। তাকে এখন গান, নাচ, যোগব্যায়াম, আবৃত্তি, আঁকা, ক্যারাটে সব—সব শিখতে হচ্ছে। তার ওপর অনলাইন ক্লাস আর প্রাইভেট টিউটর তো আছেনই। কখনো তার ভালো না লাগলে, বা শরীর খারাপ লাগলে বাবা-মা’র একটাই কথা; স্কুল তো যেতে হচ্ছে না, বাড়িতে তো বসেই থাকতে হয় সারাদিন, এগুলো তো করতেই হবে। এত খাতা, এত রকমের সবকিছু মনে রাখা, এমনকি কোন কোন দিন কোন কোন ক্লাস আছে, সেটাও মনে রাখা মুশকিল। তার মাঝে মাঝে পাগলের মত মনে হয়।ছুটে পালিয়ে যেতে ইচ্ছে করে অনেক অনেক দূরে।

তথ্যের রকমফেরঃ 

একটু ভালোভাবে চিন্তা করলেই টের পাবেন যে আমরা কিন্তু তথ্যের সাগরে ভাসছি। এই তথ্য যে সবসময় আমাকে সাহায্যই করছে, তা কিন্তু নয়। কখনো কখনো তথ্য আমাদের ভীষণরকম ক্ষতিও করে দিচ্ছে। যেমন ধরুন আপনি একটি সিনেমা দেখছিলেন। ব্রেক-এর সময় আপনি টিভি চ্যানেল বদলাচ্ছেন। একটু গান শুনলেন, একটু হেডলাইন, তারপর কী করবেন, বুঝতে পারছেন না। শুধু রিমোটে চাপ দিচ্ছেন। হঠাৎ আপনার নজরে পড়ল একজন জ্যোতিষী বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান দিচ্ছেন। ক্ষমা করবেন, আমি এখানে জ্যোতিষ বিদ্যা ভালো না খারাপ, সে বিষয়ে আলোচনা করছি না। কিন্তু আপনি দেখলেন যে সেই জ্যোতিষী যে বিষয়গুলোর ওপর কথা বলছে সেগুলো আপনার সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। আপনার মন দুর্বল হয়ে গেল। আপনি সেই জ্যোতিষী সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে শুরু করলেন। সময় বদলানোর জন্য কী কী যাগ-যজ্ঞ করা যেতে পারে,আপনার সাথে তার আলোচনা শুরু হলো, তার পরেরটা আর নাইবা বললাম।

জানেন কি আপনার শিশু মিথ্যে বলে কেন ? জেনে নিন, সংশোধনের পথ খুঁজে পাবেন

হয়তো ঠিক সেইসময় সেই চ্যানেলটা না পাল্টালে আপনার সেই জ্যোতিষীর সঙ্গে দেখাও হত না, আর তারপর আপনার জ্যোতিষ বিদ্যা সম্পর্কে যতটুকু আস্থা ছিল সেটাও নষ্ট হত না।

কাজেই বুঝতেই পারছেন, সঠিক তথ্য ও সঠিক জায়গায় সব সময় পৌঁছয় না। বেঠিক তথ্যকে সঠিক বলে মেনে নিলে আমাদের ভয়ঙ্কর রকমের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। এখানে আমাকে আরেকটি বিষয়ের কথা একটু বলতে হবে প্রসঙ্গক্রমেই। সেটা হল অপশন। অর্থাৎ বেছে নেবার ক্ষমতা। এই ক্ষমতা যত বেশি পাওয়া যাবে, বিভ্রান্ত হবার সম্ভাবনাও তত বেশি থাকবে। আপনাকে যদি দশটির মধ্যে একটি বেছে নিতে বলা হয়, আপনি বেশ ভালোভাবেই তা পারবেন, কিন্তু হাজারটি অপশন থাকলে আপনার বেছে নেবার ক্ষেত্রে ভুল হবার সম্ভাবনাই প্রবল।

নিজের যত্ন নিন: সন্তানকে বড় হতে দিন।

তথ্য ও ছোটদের মনঃ 

একই রকমভাবে অতিরিক্ত তথ্যের সম্মুখীন হলে শিশুমনেও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। এই ওভারলোড হবার কারণ অন্য সবকিছুর মতোই মানবমস্তিকের তথ্যকে প্রসেসিং করার দ্রুততার সীমাবদ্ধতা আছে। ওভারলোড হল সেই ক্ষণ যখন আগত তথ্যের পরিমান মস্তিষ্কের প্রসেসিং করার ক্ষমতাকে ছাপিয়ে যায় (Klapp,1982,63)
স্বাভাবিক ভাবেই তার ফলে মস্তিষ্কে প্রচন্ড স্ট্রেস বা চাপ পড়ে। এখন বড়রা যত সহজে তথ্যগুলোকে আলাদা করে, প্রয়োজনীয় বা অপ্রয়োজনীয়, মানে কোন তথ্য নিতে হবে, কোন তথ্য গ্রহণযোগ্য নয়, তা আলাদা করে ছেঁকে নিতে পারে, শিশুরা তা পারে না।

এখানেই বিভ্রান্তির শুরু হয়। একটি সিরিয়ালের সংলাপ আর কোনো বিজ্ঞাপনের সংলাপ ; কোনটিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত, তা শিশুরা বুঝতে পারে না বলেই সরল বিশ্বাসে তারা সব ভাল বা গ্রহণযোগ্য বলে মনে করে নেয়।
এর অবশ্যম্ভাবী ফল খারাপ তথ্যের ফাঁদে পড়া এবং জীবনে বিভিন্ন জটিলতার শিকার হওয়া।

ইমোজির মানে না বুঝে ব্যবহার ? সাবধান ! ইমোজির পেছনে যৌনতার ব্যঞ্জনা

 সন্তানের চৌম্বকক্ষেত্রঃ

বিখ্যাত ভাষাতত্ববিদ ও দার্শনিক নোয়াম চমস্কির মত অনুযায়ী শিশুদের মধ্যে জন্মগতভাবে ভাষা অধিগ্রহণ ও প্রসেসিং করার এক অদ্ভুত ক্ষমতা থাকে, যাকে LAD (Languag acquisition device) বলে। এর মাধ্যমে শিশুরা চুম্বকের মত আকর্ষিত হয় নতুন ভাষা ও নতুন আচরণের প্রতি। আর তথ্য যেহেতু ভাষার মাধ্যমে আসে, তাই বাচ্চারা সবসময় সব তথ্যকেই গুরুত্ব দিতে শুরু করে এক জন্মগত অভ্যাসে। তাই বাচ্চাদের ও বয়ঃসন্ধিতে information overload হবার সম্ভাবনা সবসময় থেকেই যায়, যদি সেই information কে আমরা ছাঁকনি না দিতে পারি।
(এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এই লিংকটি পড়তে পারেন।
https://www.google.com/url?sa=t&source=web&rct=j&url=http://www.ala.org/aasl/sites/ala.org.aasl/files/content/aaslpubsandjournals/slr/vol1/SLMR_InformationOverload_V1.pdf&ved=2ahUKEwjG5YzYw9ftAhVcILcAHVlNBQ8QFjABegQIAhAF&usg=AOvVaw2Y7G01a9F3B3YhIVC5aX_Y)

অতি তথ্যের ফলাফলঃ

  • প্রথমতঃ  মানসিক ক্লান্তি: যখন মস্তিস্ক অতিরিক্ত তথ্যকে ক্রমাগত প্রসেস করতে থাকে, সে তাড়াতাড়ি ক্লান্ত হয়ে পড়ে। স্বাভাবিকভাবেই মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা কমতে শুরু করে। মস্তিস্ক উৎপাদন ক্ষমতা হারায়। তার ফলে হতাশা, মানসিক অবসাদ, খিটখিটে মেজাজ ও মস্তিস্ক সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার সূত্রপাত হয় খুব কম বয়সেই।

 

  • দ্বিতীয়তঃ  মনোযোগহীনতা: মস্তিস্ক সবচেয়ে বেশি কর্মক্ষম হয় সে সময় যখন সে একটি বিষয়ে মনোনিবেশ করে। এর কারণ মানবমস্তিষ্কের আচরণ সবসময়েই একমুখী। তার বিভিন্ন তথ্যকে মস্তিস্ক একসঙ্গে প্রসেস করতে শুরু করলে, কোনো তথ্যর জটই সে ঠিকমত ছাড়াতে পারে না। তার ফলে সে হয় হাল ছেড়ে দেয় বা সে মনোযোগহীন হয়ে পড়ে।তার ফলে কর্মক্ষমতা কমতে শুরু করে। মস্তিষ্কের নিজের প্রতি বিশ্বাস হারাতে শুরু হয়।

বন্ধু-বান্ধবী ও যৌনতা নিয়ে শিশুর মনের কৌতুহল কীভাবে সামলাবেন বাবা-মা ?

  • তৃতীয়তঃ  নিয়ন্ত্রণহীনতা: ক্লান্ত ও বেশি চাপ নেবার ফলে মস্তিস্ক তার নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা হারাতে থাকে। তথ্যের ওভারলোডের ফলে মস্তিষ্কের যে ক্ষতি (burnout) হয়, তার ফলে মস্তিস্ক সময়,স্থান আর ব্যক্তির জ্ঞান গুলিয়ে ফেলে। আমরা সামাজিক আচরণ সম্পর্কিত যে যে বোধ জন্মের পর থেকে মানুষের সাথে মেলামেশার মাধ্যমে তৈরি করি, মস্তিষ্কের সেই অংশটাই আসলে গুলিয়ে যায়, আর মস্তিস্ক অদ্ভুত আচরণ করতে থাকে।বয়ঃসন্ধিকালে এই সমস্যা সবচেয়ে বেশি দেখা গেলেও এখন কম বয়সের বাচ্চাদের মধ্যেও এই প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

 

  • চতুর্থতঃ  মানসিক বিভ্রাট: ভারতীয় সংস্কৃতি ও পশ্চিমি সংস্কৃতির একটা মূলগত পার্থক্য আছে যা এই ইন্টারনেট ও তথ্যসংস্কৃতির সুলভ দুনিয়ায় শিশু ও বয়ঃসন্ধিতে একটা মানসিক বিভ্রান্তির সৃষ্টি করছে।কখনো বন্ধুদের চাপে, কখনো অতি উৎসাহে আমাদের সন্তানরা যা যা মানসিক অভিজ্ঞতা লাভ করছে, তার সঙ্গে আমাদের লালন-পালন ও শিক্ষা-সংকৃতির যে পার্থক্য আছে, তা কি তার মনে একটা পাপবোধ, একটা বিভ্রান্তির সৃষ্টি করছে না? আমার সন্তান যদি কোনো পর্ন-সাইট দেখে তার দিকে নেশার মত অতি উৎসাহে ধাবিত হয়, তার সমস্ত দায়, সমস্ত দোষ কি তার? একটু ভাবুন তো? কিন্তু পরবর্তীকালে সে যে পাপবোধে , লজ্জায়, মানসিক কষ্টে ভুগতে থাকে, তা কি তার মধ্যে নিজের সম্পর্কে কোনো সুস্থ চেতনাবোধের জন্ম দিতে পারে?

সন্তানের মনোযোগের অভাব ? কী করবেন আপনি ?

কী করবেন: কী করবেন নাঃ 

  • একঃ  সন্তানের চারপাশে, তার দিকে আগত তথ্যের সচেতনভাবে নিয়ন্ত্রণ করুন। এর জন্য সবার আগে আপনাকে সন্তানের জন্য একটা রুটিন তৈরি করে দিতে হবে, যে সে কোন কোন সময় টিভি দেখবে, কোন কোন সময় বই পড়বে, কোন কোন সময় আপনার ফোন নিয়ে নাড়াচাড়া করবে, অর্থাৎ তথ্যের রুটিন।আপনাকেও খেয়াল রাখতে হবে, সে কোন কোন চ্যানেল দেখছে এবং মোবাইল ফোন নিয়ে কী করছে। মনে রাখবেন, অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজের মত এটাও আপনার কাজ।

 

  • দুইঃ  বাড়িতে একটি টেলিভিশন থাকাই ভালো। এতে নিজেদের মধ্যে নৈকট্য বজায় থাকে। টিভি তে প্রয়োজনীয় চ্যানেলগুলো ছাড়া অন্য চ্যানেল রাখবেন না। ফ্রি হলেও নয়।মনে রাখবেন, বেশি অপশন, বেশি সমস্যা।

 

  • তিনঃ  অনেক সময়ই দেখা যায়, বাচ্চারাও বড়দের সাথে বসে টিভিতে সিরিয়াল দেখছে। এটা একদম প্রশ্রয় দেবেন না। প্রয়োজন পড়লে দুই-এক দিন টিভি বন্ধ রাখুন। ওই সিরিয়াল দেখার সময়টাতে বাচ্চাদের অন্য কোনো কাজে, যেমন ছবি আঁকা, বই পড়া বা হোম-ওয়ার্ক করা ইত্যাদিতে আগে নিযুক্ত করে একটা রুটিনে নিয়ে আসুন। তারপর তাদের বুঝিয়ে দিন, যে ওই সময়টাতে শুধু আপনারাই সিরিয়াল দেখবেন।এভাবে দুই-এক দিন একটু ত্যাগ স্বীকার না করলে বাচ্চাদের মানুষ করতে পারবেন না।

শৈশবেই নৃশংসতার পাঠ ! পাঁচ বছরের তাতান বাবার গলায় ধরলো ছুরি

উপসংহারঃ এই যুগে তথ্যের বেড়াজালে আমরা সবাই বিপর্যস্ত। তথ্যের ডাইনিরা আজ সমস্ত fair কে foul আর সমস্ত foul কে fair হিসেবে দেখিয়ে মুনাফা লুটতে চাইছে প্রতি ঘরে ঘরে। একটু সাবধান হোন। একটু চোখ-কান খুলে রাখুন। প্রয়োজন আর লালসার মধ্যে পার্থক্য যদি আপনিই না বুঝতে পারেন, আপনার সন্তানকে সঠিক পথ দেখবেন কী করে। সমস্ত তথ্যের ভালো মন্দের শিক্ষার জন্য আজও তো শুধু সে আপনার দেওয়া তথ্যের উপরেই ভরসা করে থাকে, তাই না ?
(চলবে)

লেখক: অমিতাভ দাষ।
Child and Adolescent Counselor.

পরের সংখ্যায়: সন্তানের সুস্থ বিকাশের জন্য তার চারিপাশের পরিবেশ কিভাবে তৈরি করবেন।

Related News

Leave a Reply

Back to top button