লাইফ স্টাইল

কোভিড সংক্রমণ রুখতে কোন মাস্ক কতটা কার্যকর?

করোনা ভাইরাস কে জব্দ করতে কোন পেশার ব্যক্তি কোন মাস্ক পড়বেন? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা জানতে পড়ুন

Bengal Live ডেস্কঃ  কোভিড সংক্রমণ রুখতে কোন মাস্ক কতটা কার্যকর? করোনা থেকে বাঁচতে কোভিড-প্রোটোকল মানার পরেও করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন? মাস্কের সঠিক ব্যবহার জানুন এই প্রতিবেদনে।

অতিমারীর ফলশ্রুতিতে বিশ্বজুড়ে চলছে অর্থনৈতিক মন্দাবস্থা। লকডাউনের সম্ভাবনায় ঋণাত্মক জিডিপি র আশঙ্কায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বিশ্ব অর্থনৈতিক মহলে। এরই মধ্যে ঠিক এক বছর পর ফের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে করোনা ভাইরাস। উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। অনেকেই একে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ বলেও অভিহিত করেছেন। এবার ভাইরোলজিস্ট রা জানালেন কার জন্য কোন মাস্ক যথোপযুক্ত এবং বাজারে বিক্রি হওয়া মাস্ক গুলির কার্যকারিতা সম্পর্কে-

“নো ব্রিজ, নো ভোট” স্লোগান তুলে ভোট বয়কটের ডাক গ্রামবাসীদের

 

১. N95 মাস্কঃ WHO এর নির্দেশিকা অনুযায়ী ভালভবিহীন N95 মাস্ক পড়তে বলা হয়েছে স্বাস্থ্যকর্মীদের যাঁরা করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা করে চলেছেন। ০.৫ মাইক্রনের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণাকেও আটকানোর ক্ষমতা রয়েছে এই মাস্কের। তবে ব্যয়বহুল হওয়ায় সর্বসাধারণের জন্য এই মাস্ক সহজলভ্য নয়।

২. সার্জিক্যাল মাস্কঃ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকর্মী ও অন্যান্য করোনা যোদ্ধাদের এই মাস্ক পড়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও সহজলভ্য হওয়ায় আমজনতা এই ত্রিস্তরীয় সার্জিক্যাল মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। তবে এই মাস্কের ভাইরাস প্রতিরোধের ক্ষমতা N95 এর তুলনায় কম।

৩. কাপড়ের মাস্কঃ ভাইরাস বিশেষজ্ঞদের মতে N95 এর বিকল্প হিসেবে রেশম বা সিল্কের মাস্ক জনসাধারণের জন্য করোনা মোকাবিলার শ্রেয় পন্থা হতে পারে। সিল্কের কাপড়ের তৈরি মাস্কের বিভিন্ন ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণা প্রতিরোধের ক্ষমতা মোটামুটি N95 এর মতোই।

ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মেডিক্যাল জার্নাল  ‘Lancet’ করোনা সংক্রমণের আগের ধারনা নস্যাৎ করে দিয়ে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, করোনা শুধুমাত্র সংক্রমিতের হাঁচি-কাশির ড্রপলেটের মাধ্যমেই ছড়ায় না, বরং করোনার জীবাণু অতিমাত্রায় বায়ুবাহিত।

অধিকাংশ সময় একনাগাড়ে ল্যাপটপ বা কম্পিউটারে কাজ করার প্রবণতা অজান্তেই বাড়াচ্ছে স্বাস্থ্যের ঝুঁকি!

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, করোনাকালে যথেচ্ছভাবে উৎপাদিত মাস্কগুলোর রাস্তাঘাটে খই-মুড়কির মতো বিক্রিবাটা ঠিক নয়। এতে ফল হিতে বিপরীত হচ্ছে। করোনা প্রতিরোধে মাস্ক উৎপাদন করা উচিত WHO -র গাইডলাইন মেনে উপযুক্ত উপকরণ দিয়ে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আগে জানিয়েছিল শুধুমাত্র করোনা আক্রান্তরা এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীরা মাস্ক পড়ে চললেই হবে। কিন্তু দিনকেদিন করোনা সংক্রমণ যে হারে বৃদ্ধি পেয়েছে তাতে সকলকেই মাস্ক পরতে বলা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ভারত সরকারও করোনা সংক্রমণের রেড অ্যালার্ট জারি করেছে। বাড়ি থেকে বেরোলেই মাস্ক পড়া আবশ্যক। রেল স্টেশনে মাস্ক ছাড়া প্রবেশ করলে ৫০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করছে ভারতীয় রেল। এমতাবস্থায় একে অপরের সাথে কথা বললে মাস্ক পড়ুন, খুব প্রয়োজন ভিড়ের মধ্যে যেতে হলে অবশ্যই মাস্ক পড়ুন। খুব প্রয়োজন না হলে চেষ্টা করুন ভিড়ভাট্টা এড়িয়ে চলার।

গরম থেকে বাঁচতে ফ্রিজের ঠান্ডা জল খাওয়া ঠিক কতটা ক্ষতিকারক ? জানুন বিশদে।

বিশেষজ্ঞদের মতে‌, মাস্ক পরাবস্থায় হাঁচি-কাশির মাধ্যমে থুতু বা লালা নিঃসরণ হলে সংশ্লিষ্ট মাস্ক ব্যবহারের প্রয়োজন নেই, তবে ব্যবহৃত মাস্ক ফেলে দেওয়ার আগে, ১ লিটার জলে ৩০ গ্রাম মতো ব্লিচিং পাউডার মিশিয়ে ওই দ্রবণে ব্যবহৃত মাস্ক ৩০ মিনিট পর্যন্ত ভিজিয়ে রেখে জীবাণুমুক্ত করে তারপর ওই মাস্ক ফেলে দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে সংক্রমণ অনেকটাই কমবে বলে জানিয়েছে ওয়াকিবহাল মহল।

Related News

Leave a Reply

Back to top button